প্রজন্মের পরামর্শ

ফিটনেস কনসালটেন্ট

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৩, ২০:০৪
এ প্রজন্মের সবাই জানে, শরীর ফিট ও নিরোগ রাখতে চাই ব্যায়াম। তাই এ সময় জিম বা ব্যায়ামগারের জনপ্রিয়তা ব্যাপক বেড়েছে। জিমের একজন দক্ষ ফিটনেস কনসালটেন্ট ব্যায়ামকারীদের শরীরের সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পেশা হিসেবে ফিটনেস কনসালটেন্ট এ প্রজন্মের পছন্দের তালিকায় চলে এসেছে। তাই কমব্যাট জিমের ফিটনেস বিষয়ক পরামর্শক শামীমা আক্তার তুলির কাছে জানব এই পেশায় সফল হতে তার পরামর্শ এ পেশায় আসতে হলে অবশ্যই প্রথমে নিজেকে তৈরি করতে হবে। কোনো ভালো একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্র্যাকটিকাল ও থিয়োরি—দুই ধরনের শিক্ষাতেই নিজেকে শিক্ষিত করতে হবে। ফিটনেসের মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরিক আসপেক্ট সম্বন্ধে ভালো করে জানতে হবে। না জেনে এই পেশায় আসাটা নিজের ও ক্লায়েন্টের—দুজনের জন্যই ভয়ংকর ব্যাপার। মানুষের শরীর নিয়ে যখন আপনি কাজ করেন, তখন এ বিষয় সর্বোচ্চ সতর্কতা থাকা উচিত আপনার। আমার জানা মতে, বাংলাদেশে ফিটনেসের উপরে তেমন কোনো সার্টিফিকেট পড়াশোনা নেই। দেশের বাইরে, যেমন ব্যাংকক, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়ায় ফিটনেসের উপর বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্স রয়েছে। আবার ইচ্ছে করলে দেশেই ভালো ফিটনেস ইন্সট্রাক্টরের কাছে কাজ শেখা যায়। তবে এক্ষেত্রে তার উচিত ফিটনেস বিষয়ে নিজেকে যথাযথ আপডেট রাখা। এখন ঘরে বসেই অনলাইনে এ বিষয়ে জানাশোনার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিটি ব্যাপারে নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে। কারণ অনেক সময় দেখা যায়, যে ব্যায়ামটি নিজের সমস্যাতে কাজে লেগেছে সেটি আবার অন্যের ক্ষেত্রে সমান কাজে নাও লাগতে পারে। মূলত ফিটনেস একটি শিল্প। এই শিল্পগুণটি নিজের মাঝে থাকলেই অন্যের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়। সবার আগে ক্লায়েন্টের সুস্থতা নিশ্চিত করাই একজন ফিটনেস কনসালটেন্টের মূল কাজ। এ সময়ের মানুষেরা অনেক সচেতন তাদের পরিসেবা নিয়ে। সর্বোপরি, ফিটনেস বিষয়টা যে বিলাসিতা নয়, এটাও আমাদের বুঝতে হবে, তাহলেই হয়তো পেশার সাথে সাথে সার্বিক পরিস্থিতিরও উন্নয়ন ঘটবে। === সিরামিকস ইঞ্জিনিয়ারিং চীনামাটিকে শিল্পীর পট করে গড়ে ওঠা শিল্পকে আমরা সিরামিকস শিল্প হিসেবেই চিনি। মূলত আমাদের চলমান জীবনে ব্যবহূত বিভিন্ন পণ্যে একটু নান্দনিকতার ছোঁয়া আনতেই এ ধরনের সিরামিকসের প্রবর্তন। এই শিল্পকে নিজের পেশায় রূপান্তর করতে বর্তমান প্রজন্মের আগ্রহের কমতি নেই। তাই এবার ফার সিরামিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরফান উদ্দিন রিফাত জানিয়েছেন এ পেশায় সফল হতে কিছু গুরুত্বর্পূণ পরার্মশ। আমার বাবা বলতেন, ‘আমরা এখন সিরামিক শিল্পে পাঠশালা থেকে স্কুলে উঠেছি। খুব শীঘ্রই স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব।’ এ কথার সত্যতা আমি দেখেছি, দেশে বর্তমানে প্রায় দুই শতাধিক সিরামিক কারখানা আছে। ফলে এই প্রজন্মের জন্য এই শিল্পে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগও বেড়েছে। এটি যেহেতু একটি সৃজনশীল কাজ, তাই মেধা ও মননের মাধ্যমে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আসতে পারলে এই পেশায় দ্রুত খুব ভালো অবস্থান অর্জন করা সম্ভব হবে। দেশে সিরামিক নিয়ে পড়াশোনার জন্য সরকারি-বেসরকারি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তবে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকসে চার বছর মেয়াদি সিরামিক টেকনোলজি ডিপ্লোমা কোর্স এবং দুই বছর মেয়াদি ট্রেড কোর্স চালু আছে। আমার মতে, নিজের মাঝে সৃষ্টিশীল গুণ থাকলে এই পেশায় সহজেই নিজেকে মানিয়ে নেওয়া যায়। কাজে ভালো দক্ষতা দেখাতে পারলে দ্রুত পদোন্নতিও সম্ভব হয়। এ ছাড়া দেশের বাইরেও রয়েছে কাজ করার সুযোগ। সিরামিক প্রকৌশলীদের জন্য বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (বিসিএসআইআর) এবং বিএসটিআইতেও কাজ ও গবেষণা করার সুযোগ আছে। আমাদের দেশে অন্য শিল্পের মতো সিরামিক শিল্প প্রাথমিকভাবে কিছুটা ধীরে প্রসার পেলেও পরবর্তী সময়ে এর বিকাশ খুব দ্রুতই হয়েছে। বর্তমানে বছরে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিরামিক শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। পূরণ করছে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক চাহিদা। সুলভ প্রাকৃতিক গ্যাস ও শ্রমের মূল্য কম হওয়াই এই শিল্পের সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি। সেক্ষেত্রে নতুনরা অনায়েশেই এখানে নিজেদের ভবিষ্যত্ সাজানোর চিন্তা করতে পারে।