প্রায় এক দশক আগে যখন তিনি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনে আসেন; তখন পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব একটু বাঁকা চোখে দেখতেন। খুব একটা সহজভাবে নিতে পারতেন না। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি খুব একাগ্র ছিলেন। শুধুমাত্র নিজের মেধা এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিজেকে পৌঁছে দিয়েছেন সফলতার দ্বারপ্রান্তে। তিনি বাংলালায়ন কমিউনিকেশন্স লি.-এর মিডিয়া অ্যান্ড পিআর ম্যানেজার সৈয়দ তৌফিকুল বারী আবু নাসিম। তাকে নিয়ে আমাদের এ আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার
একটি স্বনামধন্য মিডিয়া এজেন্সিতে ২০০৩ সালে এক্সিকিউটিভ, পাবলিক রিলেশন হিসেবে কাজে যোগদান করেন সৈয়দ তৌফিকুল বারী আবু নাসিম। যদিও তার স্বপ্ন ছিল একজন সফল ব্যাংকার হওয়ার। আর সেই স্বপ্ন নিয়েই ২০০৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি বৈদেশিক ব্যাংকে যোগদান করেছিলেন। ব্যাংকার হিসেবে বেশ সফল ছিলেন তিনি, কিন্তু মিডিয়ার মানুষের ভালোবাসা ও কাজের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ তার মনকে বারবার নাড়া দিত। সে কারণেই দুই বছর পরেই আবার মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে ফিরে আসেন নাসিম। আজ তার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে বাংলালায়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সব শ্রেণীর ভোক্তাদের মধ্যে বাংলালায়নের পণ্যের গুণাগুণ ও সেবা সম্পর্কে গণমাধ্যমের সাহায্যে প্রচার ও প্রসার ঘটানো। আর এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশের সাধারণ ভোক্তাদের নিকট পণ্য ও তথ্য পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এই পেশায় নিজের স্বাচ্ছন্দ্যবোধের কথা বলতে গিয়ে নাসিম বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল একজন ব্যাংকার হওয়ার। কিন্তু যখন আমি ব্যাংকে চাকরি শুরু করলাম, তার কিছুদিন পরই আমি অনুভব করি মিডিয়া ও পিআর পেশাটাই আমার জন্য স্বস্তিদায়ক। এজন্যই, আমি আবার মিডিয়া ও পিআর পেশায় ফিরে আসি এবং বাকি কর্মজীবন আমি এই পেশার সাথেই সফলভাবে যুক্ত থাকতে চাই। বর্তমানে বাংলালায়ন ও তার পণ্যের গুণাগুণ ও সেবা সম্পর্কে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে এর প্রচার ও প্রসার ঘটাচ্ছি এবং সফলতার সাথে এসব কাজ সম্পাদন করার জন্য আমি ও আমার দলের সব সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
সৈয়দ তৌফিকুল বারী আবু নাসিমের মতে পেশা হিসেবে মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অনেক এগিয়ে আছে কেননা বর্তমান বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বিপণন ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। বিপণন ব্যবস্থা ছাড়া কোনো পণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছনো সম্ভব নয়। অনেক ভালো পণ্য আছে যেগুলো সঠিক বিপণন পরিকল্পনার অভাবে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে না, যার ফলে পণ্যটি বাজার থেকে হারিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। তাই বলব, নতুন যারা এই পেশায় কাজ করতে আগ্রহী, তাদেরকে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েও সাহসের সাথে কাজ করে যেতে হবে। এজন্য তাদেরকে কাজের প্রতি মনোযোগ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে।’ নতুনদের কাজ সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে নাসিম বলেন, ‘যদি আমি চতুর্থ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কথা বলি তারা সত্যিকারের মেধাবী এবং সকল কর্মক্ষেত্রেই ভালো করছে। তারা তাদের কাজের প্রতি মনোযাগী এবং কার্যপরিধি সম্পর্কে অবগত। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এবং আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তারা তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন ধারণা নিয়ে আসছে এবং সঠিক কর্ম-পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হচ্ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে আমার ধারণা আমাদের দেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি সারা বিশ্বের কাছে একটি উদারহণ তৈরি করতে সক্ষম হবে।’ নিজের সম্পর্কে তিনি জানান, তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ঢাকার মোহাম্মদপুরে। কৈশোরে বেশির ভাগ সময়ে দাদা-দাদীর স্বান্নিধ্যে ছিলেন। দাদা একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় বাগেরহাট, খুলনা, বরিশাল, ঝালকাঠিতেও কাটিয়েছেন কিছুকাল। বর্তমানে স্ত্রী, দুই ভাই, এক বোন, বাবা-মা ও দাদীকে নিয়েই তার পরিবারিক আবহ। তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন হলো নিজের সফলতা আশপাশের প্রতিটি মানুষের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়া।
সৈয়দ তৌফিকুল বারী আবু নাসিম
ডাকনাম :নাসিম
জন্ম তারিখ ও স্থান :৩ ফেব্রুয়ারি, মাগুরা
মায়ের নাম :সৈয়দা আঞ্জুমানারা বেগম
বাবার নাম :সৈয়দ মহম্মদ শোয়েব ইব্রাহিম
প্রথম স্কুল :কাকলী উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা
প্রিয় মানুষ :হযরত মুহম্মদ (সা.)
প্রিয় উক্তি :act upon a dream
প্রিয় পোশাক :টি-শার্ট ও জিন্স প্যান্ট
অবসর কাটে যেভাবে :ভ্রমণ, ফেসবুক ও বিভিন্ন প্রকার আর্টিকেল পড়ে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :কোনো কাজ করে নিজের আত্মতৃপ্তি ও অন্যদের সাধুবাদই সফলতা।
