চট্টগ্রামে জামায়াতের হরতালে প্রাথমিক পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৩
চট্টগ্রামে জামায়াতের গতকাল রবিবার হরতালে প্রাথমিক শিক্ষা ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। হরতালের কারণে রাস্তায় যানবাহন সংকট, বিভিন্নস্থানে পিকেটারদের বাধা এবং ককটেল বিস্ফোরণের আতঙ্ক কাটিয়ে অনেকেই সময়মত পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পারেননি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি ছিল চরমে। কয়েকবার যানবাহন পরিবর্তন করে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন তারা। অনেকে গাড়ি না পায়ে হেঁটেই কেন্দ্রে পৌঁছেছেন। উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ডে দলীয় নেতা মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ও মিরেরসরাইয়ে দলীয় কর্মী হাফেজ মুহাম্মদ জসিমউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীতে গতকাল রবিবার পূর্ণদিবস হরতাল আহ্বান করে জামায়াত। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি পরীক্ষাকে হরতালের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল। হরতাল চলাকালে নগরীর কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকাল ৮টার দিকে ষোলশহর এলাকায় শিবিরের ঝটিকা মিছিল থেকে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। মিছিলটি বেবি সুপার মার্কেট এলাকা অতিক্রম করার সময় রাস্তায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া বালুছড়া এলাকায় পুলিশের সাথে শিবিরের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। হরতালের সমর্থনে নগরীর কয়েকটি স্থানে ঝটিকা মিছিল করে জামায়াত-শিবির। নগরীতে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়। সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা জানান, জামায়াত নেতা হত্যার প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে সকাল থেকেই কঠোরভাবে হরতাল পালিত হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। জামায়াত নেতাকর্মীরা বিভিন্নস্থানে অবস্থান নিয়ে মিছিল-সমাবেশ ও পিকেটিং করেন। সীতাকুণ্ড পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা তৌহিদুল হক চৌধুরীর বাড়িতে শনিবার গভীর রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালায়। তৌহিদুল হককে না পেয়ে তার ছোটভাই আওয়ামী লীগ কর্মী তরিকুল হক চৌধুরীকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।