বসতবসতি

শোবার ঘরটি যেমন হবে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৩, ১৭:৩৬
সারাদিন ব্যাপক ব্যস্ততাকে পাশ কাটিয়ে সবাই সন্ধ্যার পর ফিরে আপন ঘরে। লক্ষ্য থাকে ঘরে ফিরে নিত্যনৈমিত্তিক কাজগুলো শেষে সোজা শোবার ঘরের উদ্দেশ্যে। তাই সকলের কাছেই নিজের শোবার ঘর বা বেডরুমটি একটি ভালোলাগার জায়গা। তাই বলে দিনভর ব্যস্ততা শেষে যে নীড়ে ফিরতে হবে সে জায়গাটা কি একটু সুন্দর করে সাজানো গোছানো রাখতে হবে না? অবশ্যই হবে! তাহলে মন ভরে উঠবে প্রশান্তিতে। দিন শেষের বিশ্রামের সময়টা হয়ে উঠবে আক্ষরিক অর্থেই বিশেষ। লিখেছেন সাজেদুল হাসান শুভ্র নিজের নীড় সুন্দর করে সাজানোর কথা বললে প্রথমেই মাথায় আসে শোবার ঘরের কথা। শোবার ঘর সুন্দর গোছানো হলে ভালো থাকবে মন। কিন্তু কীভাবে এত ব্যস্ততার মধ্যে সুন্দর করে তোলা যায় শোবার ঘরটিকে, তাও আবার খুব সহজে। জেনে নিন সেসবই।  শোবার ঘরে মার্বেল বা গ্রানাইট না থাকলে সেখানে মনের মতো টাইলস ব্যবহার করতে পারেন। মার্বেলের মতো ডিজাইনের টাইলসও ব্যবহার করতে পারেন।  শোবার ঘরে টাইলস লাগাতে হলে বেছে নিতে পারেন গ্লসি বা ম্যাট যেকোনো টাইলস। আপনার যদি কাঠে আসক্তি থাকে, তাহলে ব্যবহার করতে পারেন উডেন টাইলস।  শোবার ঘরে হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করুন। পর্দার কাপড় হিসেবে খাদি চেক অথবা পাটের কাপড়কে দিন অগ্রাধিকার।  দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বেড কভার লাগান।  খাটের পাশে একটি ছোট্ট টেবিলে ল্যাম্প ও ফটোফ্রেম রাখুন। বেশ আকর্ষণীয় দেখাবে।  মেঝের একটা অংশে কার্পেট বিছান। কর্নারে ইনডোর প্লান্ট রাখতে পারেন।  ঘরে একটি দেয়ালে বড় একটা আয়না বসাতে পারেন। অন্য দিকের দেয়ালে রাখুন তামা, পিতল বা পোড়ামাটির ওয়ালম্যাট। আপনার রুচির পরিচয় দেবে এসব।  ঘরে ঢুকতেই দরজার ডানে বা বামে মাটি বা পিতলের পাত্রে পানি দিয়ে তাতে গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে দিন, তার সঙ্গে দিন ফ্লোটিং ক্যান্ডেল। দেখুন কেমন স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।  দরজার বাইরে একটি টবে গাছ রাখতে পারেন।  চাইলে ঘরে বড় কোনো বেড না রেখে ফ্লোরবেডও রাখতে পারেন।  ফ্লোরবেডের সামনে রাখতে পারেন একটি সুন্দর শতরঞ্জি। বেডের পাশে ছোট্ট একটি টেবিলে রাখতে পারেন ল্যাম্প। ল্যাম্পের পরিবর্তে ছোট কোনো গাছও রাখতে পারেন।  ফ্লোরবেডের জন্য জাজিমের না ব্যবহার করে বরং ম্যাট্রেস রাখুন।  বিছানার আকার বুঝে কুশন রাখুন।  কনট্রাস্ট রঙে কুশন ও চাদর ব্যবহার করুন। দেখবেন একটু বৈচিত্র্য আসবে।  ঘর যেমন করেই সাজান না কেন। প্রথমেই মাথায় রাখবেন সাজানো যেন স্বাস্থ্যসম্মত, আরামদায়ক, সুরুচির পরিচয় বহন করে।  শোবার ঘরের রং হবে অনেকটা হালকা। বৃদ্ধদের ঘরে সাদা বা অফহোয়াইট রং ব্যবহার করুন। আবার টিনেজাররা রঙিন শোবার ঘর পছন্দ করে। বাচ্চার শোবার ঘরের দেয়ালজুড়ে নানা কার্টুন বা নকশা বা ফুলেল মোটিফ আঁকতে পারেন।  শোবার ঘরের ফার্নিচার বাহুল্যময় না হয়ে হালকা হলেই বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।  আপনার যদি ডাস্ট এলার্জি থাকে তাহলে শোবার ঘরে লোমশ কার্পেট ব্যবহার না করাই ভালো।  চাইলে একটা বেডসাইড টেবিলও রাখতে পারেন শোবার ঘরে।  শোবার ঘর পরিষ্কার রাখাটাও কিন্তু জরুরি। পরিচ্ছন্নতার দিকে যত্নশীল হতে চেষ্টা করুন। শোবার ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, প্রচুর আলো-বাতাসযুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। অপ্রয়োজনীয় আসবাব রাখবেন না শোবার ঘরে।  শোবার ঘরে শুধু খাটের স্থান পরিবর্তন করেই মাঝে মাঝে পরিবর্তন আনতে পারেন ঘরের চেহারায়।  বিছানার কভারের সাথে ম্যাচ করে জানালায় পর্দা দিতে পারলে ঘরে সৌন্দর্য বাড়বে।  তবে চেষ্টা করুন শোবার ঘরে জানালার পর্দা হালকা রাখতে। পর্দা পাতলা কোনও ফেব্রিকের হলে বাইরের আলো এসে ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে অনেকটা।  শোবার ঘরে কেউ এলে যেন তাকে বিছানায় বসতে দিতে না হয় সেজন্য দুটো সুন্দর চেয়ার কিংবা একটি ডিভান রাখতে পারেন একপাশে।  শোবার ঘরে একটি বেড সাইড ল্যাম্প রাখতে পারেন।  শোবার ঘরে কিছু তাজা কিংবা কৃত্রিম ফুল দিয়ে সাজাতে পারেন। এবার টিপসের মধ্যে থেকে আপনার রুচির সাথে মিলিয়ে সাজিয়ে নিন নিজের শোবার ঘরটিকে। দেখুন না সাজানো গোছানো ঘরটিতে কতটা প্রশান্তি ছড়িয়ে আছে!