দেশে কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫০
মহামান্য রাষ্ট্রপতি হতে পারেন নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় জীবনে একটি অচলাবস্থা সৃষ্টির উপক্রম হয়েছে। সরকারি দলের নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার ও বিরোধী দলের নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারে দাবির প্রতি পরস্পরের অনড় অবস্থানের কারণে ইতিমধ্যে দেশে অনেক রক্ত ঝরেছে, সম্পদের ক্ষতি হয়েছে সমূহ। কিন্তু তারপরও কোন পক্ষই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতার জন্য আশানুরূপ বাস্তববাদী মনোভাব দেখাচ্ছেন না। বিরোধী দলের এ পর্যন্ত দাবি-দাওয়া নিয়ে যে সকল আন্দোলন-সংগ্রাম তার মূল সুর হচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান কে হবেন তা নিয়ে। এক্ষেত্রে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে মেনে নিতে চাচ্ছে না। আমরা মনে করি এক্ষেত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতি হতে পারেন সেই গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি যার নেতৃত্বে একটি নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালিত হতে পারে। আশাকরি, মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান করার মাধ্যমে জাতীয় সংকটের একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে। মো. বুরহানউদ্দীন ৩য় বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য দরকার একজন নিরপেক্ষ সরকার প্রধান দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জনমনে একটাই প্রশ্ন নির্বাচন কি হবে। নির্বাচন হলেও কার অধীনে হবে নির্দলীয় না অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের? এ নিয়ে দেশে জনমনে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এটা থেকে উত্তরণের জন্য দেশের প্রধান দুই রাজনীতিক দলকে তাদের কঠোর অবস্থান ত্যাগ করে সমঝোতার টেবিলে পৌঁছাতে হবে। আর এটি না হলে রাজনীতিক অস্থিরতার কালোছায়ায় মানবিক বিপর্যয় অনিবার্য। আর আমি মনে করি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন একজন নিরপেক্ষ সরকার প্রধান। সেটা হোক নির্দলীয় বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পদ্ধতি। কারণ এদেশের কোন রাজনীতিক দল একে অন্যের উপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে না। আর নির্দলীয় বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করতে হবে অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ একজন ব্যক্তিকে। যার ফলে জাতি পাবে একটা অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন। মো. আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ইচ্ছুক, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব দিলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দরকার সকলের সমঝোতা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা এবং নিরপেক্ষতা। প্রধানমন্ত্রীর ফোনে বিরোধীদলীয় নেত্রী যে ব্যবহার করেছে এই ব্যবহার ঠিক হয়নি। এতে সংলাপের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারত। তবে সমঝোতার জন্যে এখনো সময় আছে বিরোধী দলের নেত্রীর। যাই হোক আমাদের দরকার সমঝোতার মাধ্যমে এই দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। আমাদের সকলের প্রত্যাশা দুই নেত্রী সমঝোতা করবে। দুই নেত্রীর বোঝা উচিত যে তারা একটি দেশের ভাল-মন্দের জন্য সমঝোতা করতে একে অপরের সাথে এই ফোনালাপ। এখানে কোন দল বা গোষ্ঠির বিচার করার জন্য বলা হয়নি। একজন যদি আরেকজনকে সহযোগিতা না করে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাদের উচিত স্ব স্ব জায়গায় থেকে নিরপেক্ষভাবে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেয়া। এবং তারা যদি একমত হয় যে, নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব দিলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে তাহলে শুভ ফল আসবে। আসাদ আকন্দ ২য় বর্ষ, পরিসংখ্যান বিভাগ, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ নিম্নআয়ের। দু’দিন কাজ না করলে তাদের সংসার চালানো কষ্টকর হয়। কিন্তু রাজনীতিবিদরা তা অনুভব করেন না। কারণ কষ্টের যে কি জ্বালা তা তাদের জানা নেই। দশম নির্বাচন যে শুধু কর্মজীবনে প্রভাব ফেলেছে তা নয়, ছাত্রছাত্রীদের বিপুল সমস্যা হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে হরতাল, অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আসছে। এতে সাধারণ মানুষকে যদি জীবন বলি দিতে হয় তাতে তাদের কি? এরকম মন-মানসিকতা ত্যাগ করে জনগণের কথা চিন্তা করে সরকারি দল ও বিরোধী দল সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। মো. আব্দুর রহমান সুমন সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ সংকট নিরসনে চাই সদিচ্ছা ও ছাড় দেয়ার মানসিকতা আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের একগুয়েমি মনভাবের জন্য দেশ একটা চরম ক্রান্তিকালে পৌঁছেছে। একদিকে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে প্রধান বিরোধী দল হরতাল, অবরোধের নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে করিয়ে দিতে চাই, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা মূলত রাজনীতিবিদ এবং তাদের দলগুলোর সৃষ্ট। রাজনৈতিক দলগুলো যদি উদর রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন এবং দেশের কল্যাণে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি থাকেন, তাহলে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে অনতিবিলম্বে সমঝোতায় আসতে হবে। দেশের মানুষ নতুন করে ১/১১-এর মত পরিস্থিতিতে পড়তে চায় না। আর এজন্য প্রয়োজন দুই নেত্রীর সদিচ্ছা ও ছাড় দেয়ার সত্যিকার মানসিকতা। মো. আব্দুর রহমান, লেভেল-০১, সেমিস্টার-০২, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ