অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করা হয়েছে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৬
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে কেউ যাতে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেজন্য সংবিধান সংশোধন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করা হয়েছে। এখন কেউ যদি সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করে তাহলে তার বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এমনকি সর্বোচ্চ শাস্তি পাবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি। এর মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। আদালত রায়ে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। গতকাল ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ভিত্তি প্রস্তরের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। নির্বাচনকালীন সরকারে আসতে বিরোধী দলের প্রতি আবারো আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্লামেন্টে প্রায় ৯০ ভাগ সিট আমাদের। তারপরও আমরা বিরোধী দলকে আহ্বান করেছি যে, আপনারা আসেন। নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নিতে এমপিদের নাম দিন। নির্বাচন নিয়ে যাতে কোনো সন্দেহ বা প্রশ্ন না থাকে সেজন্য সকলে মিলে নির্বাচন পরিচালনা করে আমরা একটা ভিত্তি তৈরি করে যাই। সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রেখে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের সময় অনুষ্ঠিত এতগুলো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমরা হারলাম। বিরোধী দল বিজয়ী হলো। জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য কোন নির্বাচনে আমরা প্রভাব বিস্তার করিনি। কারণ দেশের তরুণ সমাজের জন্য আমরা একটি সুন্দর ভবিষ্যত্ রেখে যেতে যাই। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা যাতে অব্যাহত থাকে সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নির্বাচিত সরকার প্রধানকে হত্যা করে মিলিটারি ডিকটেটর ক্ষমতা দখল করে। এরপর ৩৮ বছর বাংলাদেশে যখনই নির্বাচন এসেছে তখনই কোনো না কোনো গোলমাল বা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন মানেই দশটা হোন্ডা আর বিশটা গুন্ডা। ভোট চাইতে বাড়ি বাড়ি যেতে হতো না। ভোটের বাক্স ভরে বা ঘোষণা দিয়ে, মানে মিডিয়া ক্যু করেই ভোটের রেজাল্ট ডিক্লেয়ার করা হতো। এ বিষয়ে বিভিন্ন আন্দোলনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। একটা নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ভোট দেবে এটা তাদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। সরকার কে গঠন করবে তা জনগণ ভোট দিয়ে নিশ্চিত করবে। জনগণের সেই অধিকারটাই আমরা নিশ্চিত এবং সুরক্ষিত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপদে পড়লে আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়। রাজনীতিবিদদের তো আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়। কখনো ক্ষমতার মসনদ আবার কখনো আদালত। নিপীড়িত-বঞ্চিত মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে আদালতের শরণাপন্ন হন। আর বিচারকরা আদালতে প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মত গুরুদায়িত্ব পালন করে থাকেন। বিচার প্রক্রিয়া একটি সুষম এবং সমন্বিত প্রক্রিয়া যেখানে বার ও বেঞ্চ উভয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী-এই নির্দেশনা মেনেই আমাদের চলতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের প্রতিবন্ধকতা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার কী আশ্রয় পাবার অধিকার ছিলো না? আমাদের কী বিচার পাবার অধিকার ছিলো না? কিন্তু শুধু আমি আর আমার বোন না, আরো অনেকে বিচার পাবার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলো। বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এদেশের মানুষ আইনের শাসন পাবে, বিচার পাবে। বিচারের বাণী যেন নীরবে, নিভৃতে না কাঁদে। যেভাবে আমাদের কাঁদতে হয়েছে ৩২টা বছর, ৩৩টা বছর। এভাবে যেনো কাউকে কাঁদতে না হয়। ন্যায়বিচার যেনো সবাই পায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের মামলার বিচারের জন্য বিচারক, আইনজীবী, সাক্ষী ও বিচার কাজে সহায়তাকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান। টেলিভিশন টকশোগুলোতে সরকারের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন আর সফলতা বেশি বলেই সরকারের সমালোচনা বেশি হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হলে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে দায়ী থাকতে হবে। বাংলাদেশকে অভিশাপমুক্ত করতেই এই বিচার শেষ করা হবে। অনুষ্ঠানে চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট বিজন কুমার সাহা দশতলা সিএমএম আদালত ভবনের জন্য পাঁচজন মানুষ বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন মাত্র একটি লিফট এবং একটি মাত্র সিঁড়ি থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরো একটি লিফট, প্রশস্ত সিঁড়ি এবং দুটি জরুরি নির্গমন সিঁড়ি তৈরি করার নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গাজী মোহাম্মদ নজিবুল্লাহ হিরু আইনজীবীদের পাঠাগারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চান। পরে শেখ হাসিনা পাঠাগারের উন্নয়নের জন্য এক কোটি টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন। ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী নজিবউল্যাহ হিরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সাহারা খাতুন, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক, ঢাকার দায়রা জজ জহুরুল হক, চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট বিজন কুমার সাহা, ইসমাইল হোসেন প্রমুখ। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ২০ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা করেছিলেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরই ১২১ বছরের পুরনো ঢাকা আইনজীবী সমিতির পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়। ১৮৮৯ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।