প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী লাঞ্ছিত :হেলাফেলার বিষয় নহে

আপডেট : ২১ মে ২০১৯, ২১:১৯

ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের দ্বারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত-অপদস্ত হইবার ঘটনা নূতন নহে। নিত্য নৈমিত্যিক না হইলেও প্রায়শই তাহা ঘটিতে দেখা যায়। তবে ইহা সাধারণ্যের কর্ম নহে। যখন যেইদল সরকারে থাকে, সেই দলে উদ্ভব হয় পেশিশক্তি সম্পন্ন একটি সম্প্রদায়। তাহারাই মূলত সরকারি কর্মচারীদের হেনস্থা করিবার প্রয়াশ পাইয়া থাকেন। ইহা কেবল দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনকই নহে, প্রজাতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনকও বটে। দৈনিক ইত্তেফাকের এক রিপোর্ট হইতে জানা গিয়াছে, জেলা ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উপ-সহকারি প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামী এবং তিনজন অফিস সহকারীকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী অফিসের অভ্যন্তরে প্রহার করিয়াই ক্ষান্ত হন নাই, অফিস কক্ষও ভাঙচুর করিয়াছেন। মারধরের শিকার ওই উপ-সহকারী প্রকৌশলী সংবাদমাধ্যমকে জানাইয়াছেন ওই নেতারা অফিসে ঢুকিয়াই ৫টি টিউবওয়েল দাবি করেন; কিন্তু তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে টিউবওয়েল প্রদান করা সম্ভব নহে জানাইলে সঙ্গে সঙ্গে তাহার উপর নেতারা চড়াও হন। অফিস সহকারীরা তাহাদের নিবৃত করিতে গেলে তাহাদের কপালেও কিছু উত্তম-মধ্যম জোটে।

এই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ হইতে ভুক্তভোগী সমরজিত ঘরামী বাদী হইয়া মামলা করিয়াছেন। খবর পাইয়া পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটিয়া গিয়াছে। তাহারা ঘটনার সহিত জড়িত একজন নেতাকে আটকও করিয়াছেন। অন্য কয়েকজনকে ‘আটক করিতে পারেন নাই’; কিন্তু পারিবেন কি? যাহাকে আটক করিয়াছেন তাহাকেও ধরিয়া রাখিতে পারিবেন কী? নিয়ম-কানুন মানিয়া আদালতে সোপর্দ করিতে পারিবেন কী? ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী বলিয়া কথা! বিগত দিনের অভিজ্ঞতা হইতে আমরা এই প্রশ্নের নেতিবাচক জবাব পাই!

শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নহে, এহেন গর্হিত কর্মকাণ্ড কোনোক্রমেই বরদাশত করা উচিত হইবে না। অন্তত আধুনিক বাংলাদেশে এইরূপ পেশিশক্তি প্রদর্শনের কোনো স্থান হইবার কথা নহে। প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো ধরনের অনিয়ম করিলে কিংবা অন্যায় করিলে তাহার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রহিয়াছেন। তাহাদের কাছে লিখিত অথবা মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো যাইতে পারে। ইহাই নিয়ম; কিন্তু মারধর করিবার মতো ধৃষ্টতা কেহ দেখাইতে পারেন না। অথচ তাহাই ঘটিয়াছে। ইহাতে প্রশাসনে একটি চাপা ক্ষোভ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নহে। সেই সঙ্গে গুটি কয়েক দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তির কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হইবে তাতে সন্দেহ নাই। এই ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় সর্বজন বিদিত হইয়াছে; কিন্তু প্রশাসনের উপর চাপ প্রয়োগ, হুমকি-ধামকির বহু ঘটনা অজানাই রহিয়া যাইতেছে। এই ধরনের সংস্কৃতি সমূলে উত্পাটন করা বড়ই জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। মনে রাখিতে হইবে, সরকারি কর্মচারীরা জনগণের সেবক। তাহাদের উপর এমন ধরনের আচরণ নিঃসন্দেহে সেবামূলক কাজে বিঘ্ন ঘটাইবে। আরো মনে রাখিতে হইবে, যে কোনো সরকারের দেশ পরিচালনার জন্য প্রশাসনই চালিকা শক্তি হিসাবে কাজ করিয়া থাকে। তাহারা শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হইলে প্রশাসনের কর্মস্পৃহা সম্পূর্ণরূপে ভাঙিয়া পড়িতে পারে। উহা মোটেই কাঙ্ক্ষিত নহে। আমরা আশা করিব, যথাযথ কর্তৃপক্ষ এই ধরনের উদ্ধত কর্মের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না রাখিয়া।