দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল সম্পর্কে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল শরিকরা এটিকে স্বাগত জানালেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সঙ্গেসঙ্গেই প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমান মন্ত্রিসভার শরিক জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, এই তফসিল অবাস্তব। তিনি এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেছেন, পুনঃতফসিল করা উচিত। এছাড়া ঘোষিত তফসিলে বিস্ময় প্রকাশ করে বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও জেএসডি সভাপতি আ.স.ম আব্দুর রব বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া হলো। আর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
এরশাদ গতকাল তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে বলেন, ২ ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো দলের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা সম্ভব নয়। সময় আরও বাড়াতে হবে। আমরা নিজেরাও ২ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে পারবো না। কাজেই এটা সম্পূর্ণ অবাস্তব। জেপি মহাসচিব শেখ শহীদও ইত্তেফাককে বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ দলের পক্ষেই মনোনয়নপত্র দাখিল করা অসম্ভব। প্রয়োজনে নির্বাচনের তারিখ আরো এক সপ্তাহ পিছিয়ে পুরো বিষয়টিকে রিসিডিউল করা যেতে পারে।
বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, একতরফা নির্বাচনের তফসিলের প্রতিবাদে জনগণকে একযোগে সারাদেশে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই নির্বাচন কমিশন মোটামুটি কম বুদ্ধির লোক দিয়ে গঠিত হয়েছিল তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। আমরা বার বার সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা না করতে অনুরোধ ও দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তফসিল ঘোষণা করে যা করলেন, এর ফলে সারা দেশে প্রতিবাদ থেকে প্রতিরোধের দাবানল জ্বলে উঠেছে। এর জন্য বর্তমান সরকার ও নির্বোধ নির্বাচন কমিশনই দায়ী থাকবে।
জেএসডি সভাপতি রব ইত্তেফাককে বলেন, ইসির এই নাটকীয় তফসিলে সমঝোতার সকল পথ রুদ্ধ হয়ে গেল। এর ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে। এ ব্যাপারে দ্রুত রাষ্ট্রপতিকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ইত্তেফাককে জানান, আজ সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন।
