দুর্নীতি মামলায় অনুমতির বিধান কেন সংবিধান পরিপন্থি নয় :হাইকোর্ট

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:১৭
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতির বিধান কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ৩২ (ক) ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনীত রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ রুল জারি করে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব, আইনসচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। গত ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন বিল ২০১৩ পাস করা হয়। ২০ নভেম্বর এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এর ফলে কমিশন সরকারের অনুমোদন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করতে পারবে না। আড়াই বছর পর পাস হওয়া এই বিলে নতুন করে ৩২/ক ধারা অন্তর্ভুক্ত করে বলা হয়েছে, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারা আবশ্যিকভাবে পালন করতে হবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারায় বলা আছে- জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মকর্তা কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত হলে সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো আদালত সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিতে পারবেন না। কোন আদালতে এই মামলার বিচার হবে, তা সরকার নির্ধারণ করে দেবে। এই ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে চারজন আইনজীবী আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী, এখলাছউদ্দিন ভুঁইয়া, সারোয়ার আহমেদ চৌধুরী ও মাহবুবুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ । তিনি বলেন, সংবিধানের ২৬(২) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, ‘রাষ্ট্র সংবিধানের তৃতীয় ভাগের কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য কোন আইন প্রণয়ন করিবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হলে তাহা এই ভাগের কোন বিধানের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।’ সংবিধানের এইরূপ স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সমতার নীতি লংঘন করে দুদক বিল পাস করা হয়েছে। এর ফলে নাগরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে তফাত্ সৃষ্টি হয়েছে।