তেল চুরির ব্যর্থ চেষ্টা !

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৪, ২১:২৯
চট্টগ্রামে যমুনা অয়েল কোম্পানির পতেঙ্গা ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্রেফ দুর্ঘটনা নাকি ট্যাংক থেকে তেল চুরির ব্যর্থ মিশন, তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে একে দুর্ঘটনা হিসেবে দাবি করলেও তেলচুরি করতে গিয়েই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় যে ট্যাংকে আগুন ধরেছিল সেটি অফিসিয়ালি শূন্য দেখানো হলেও এর মধ্যে তলানি হিসেবে প্রায় এক হাজার লিটার অকটেন ছিল। এই অকটেন চুরি করার জন্যই ট্যাংকের নিচের দিকে ওয়েল্ডিং করে ছিদ্র করা হচ্ছিল। পাইপ মেরামত করার নাম করে ওয়েল্ডিং করা হলেও এ কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল না বলে জানা যায়। ওয়েল্ডিংয়ের এক পর্যায়ে আগুন ধরে গিয়ে ট্যাংকটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপোতে একেকটি ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ২০ লাখ লিটার। তবে দুর্ঘটনা কবলিত ট্যাংকটিতে মাত্র ১ হাজার লিটার তেল থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় কী পয়েন্ট ইন্সটলেশন-১ পতেঙ্গার প্রধান ডিপো। এই এলাকায় যমুনা ছাড়াও পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, এলপি গ্যাস ও ইস্টার্ন রিফাইনারির মত সংস্থার প্রধান স্থাপনা রয়েছে। আগুন ছড়িয়ে পড়লে প্রধান স্থাপনা এলাকাসহ নৌ ও বিমানবাহিনী ঘাঁটি, চট্টগ্রাম বন্দর, শাহ আমানত বিমানবন্দরসহ পুরো পতেঙ্গা এলাকায় ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারতো। সংশ্লিষ্টরা জানান, যমুনার ডিপোতে গত দুই বছরে ছোট-বড় চারটি অগ্নিকাণ্ডের মত দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রকৃত দোষীদের কেউ শাস্তি পাননি। নামমাত্র তদন্তের পর এসব ঘটনার বলি হয়েছেন স্বল্প অপরাধী অথবা একেবারে নিরপরাধ ব্যক্তিরাই। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ শনিবার দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আজ সোমবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে শনিবার ডিপোর টার্মিনাল ইঞ্জিনিয়ার মুশফিকুর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে অনেকটাই একপেশে বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় মুশফিকুর রহমান সেদিন ডিপোতেই যাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানান, যমুনা অয়েলে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে দায়ী শক্তিশালী তেলচোর সিন্ডিকেট। যমুনা অয়েলের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তারাই এদের মূল পৃষ্ঠপোষক। পতেঙ্গা এলাকায় বিপিসির প্রধান স্থাপনার আশেপাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় এরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করে। পুলিশও তেলচুরির কাজে এদের সহযোগিতা করে। এদের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় কেউ এদের টিকিটিও স্পর্শ করতে পারে না। যমুনা অয়েলের পতেঙ্গা ডিপোর ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরো নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, কর্ণফুলি নদীতে যমুনা অয়েল যে জেটি ব্যবহার করে তার মালিক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হলেও তাদের অনুমতি ছাড়াই সম্প্রতি এ জেটিতে পাইপলাইন মেরামতের কাজ শুরু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও আহতদের দেখতে গেলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম অফিস জানায়, শনিবার সকালে পতেঙ্গায় যমুনার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি সংরক্ষণাগার এলাকা পরিদর্শন করেছেন জ্বালানি, বিদ্যুত্ ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই ঘটনায় আহত চিকিত্সাধীন ৯ শ্রমিককে দেখতে যান। মন্ত্রী আহতদের যথাযথ চিকিত্সার নির্দেশ দিয়ে বলেন, এই ঘটনার কারণ উদঘাটন করে দোষী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা জানান, অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ৯ শ্রমিকের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের চিকিত্সার খরচ যমুনা অয়েলকে বহন করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে বিপিসি’র একটি সূত্র জানায়।