এ বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলের টানা ব্যর্থতা চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল ক্রিকেট বোর্ডকে। ক’দিন আগেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, এমপি বলেছিলেন, পুরো ব্যাপারটা ঠিকঠাক করতে হবে। সেই ‘ঠিকঠাকের’ কাজটা এতো দ্রুত শুরু করে দিতে হবে-সেটা সম্ভবত তিনিও কল্পনা করতে পারেননি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের পর দলের অনেক ছিদ্রই এখন পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। এই হারের কারণ কী এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় কী; এসব জানতে বোর্ড সভাপতিসহ বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা গতকাল রবিবার জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও কোচ শেন জার্গুনসেনকে ডেকে পাঠিয়ে কথা বলেছেন। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান গতকাল বললেন, তারা মূলত দলের এই অবস্থার কারণ বুঝতে চেয়েছেন এবং সমাধানে যা যা করণীয় সব করবেন বলে কথা বলেছেন।
এক্ষেত্রে প্রথমেই অধিনায়ক হিসাবে মুশফিকুর রহিমকে দারুণ স্বাধীনতা দিয়ে দিয়েছেন সভাপতি। তার কথা কেউ কেউ শুনছেন না, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সভাপতি এই ‘লাইসেন্স’ দিয়েছেন অধিনায়ককে। তেমনটাই জালাল বলেন, ‘বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন মুশফিকুর রহিমকে দলের সকল সমস্যা সরাসরি সভাপতিকে জানাতে বলেছেন। শুধু তাই নয়, দলের ভালোর জন্য মুশফিকুর রহিম যাকে ইচ্ছা তাকে নিয়েই খেলার কথাও জানিয়েছেন।’
দলের নানাবিধ সমস্যার কথা এই আলোচনায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে জালাল ইউনুস বলছেন, দলের ম্যানেজারও কিছু তথ্য জানিয়ে বিস্মিত করেছেন বোর্ডকে, ‘ম্যানেজার আমাদের জানিয়েছেন, মাঠে খেলা শেষ হলেই ক্রিকেটাররা আর খেলা নিয়ে কোন আলোচনা করে না। হোটেলে এমনকি বাসে বসেও তারা খেলা নিয়ে কোন আলোচনা করে না। এমন হলে কীভাবে চলবে?’
তবে জালাল ইউনুস পরিষ্কার করে দিয়েছেন, যেমনটা গুঞ্জন আছে, বাস্তবে প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে দলের কোনো সমস্যা নেই, ‘অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম আমাদের জানিয়েছেন, প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে খেলোয়াড়দের কোন সমস্যা নেই। মাঠে খেলোয়াড়রা ভালো খেলছে না। অনেকের খেলা দেখে মনে হয় তারা খেলা নিয়ে ভাবছে না।’
এই জটিল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই দলে বড় ধরনের রদবদল হওয়ারও ইঙ্গিত দিয়ে জালাল ইউনুস বলেন, ‘আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি যারা ভালো ক্রিকেট খেলছে না তাদের পরিবর্তে নতুন কিছু খেলোয়াড় দলে নিতে। কিন্তু কিভাবে তা করা যায় সেটা নিয়েই আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি।’
এছাড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে আরও শৃঙ্খলা আনা ও বিসিবি ও জাতীয় দলের মধ্যে আরও সমন্বয় তৈরির জন্য পেশাদার ম্যানেজার নিয়োগের কথাও ভাবছে বিসিবি। এখন দেখার বিষয়, এসব পদক্ষেপে কতোটা কাজ হয়।
