অব্যবস্থার প্রতীক তানোর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৪, ২০:৫২
রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি দেড় বছর ধরে নষ্ট। সেটি মেরামতে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। অন্যদিকে ডাক্তার-কর্মচারীরা নিয়মিত হাসপাতালে ডিউটিতে আসেন না। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ শুক্রবার বন্ধ থাকে। এভাবেই নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানোরে ২০ জন ডাক্তারের মধ্যে ৫ জন দীর্ঘদিন ধরে ডেপুটেশনে রয়েছেন। অবশিষ্ট ১৫ জনের ৪ জন শহর থেকে এসে প্রতিদিন ঢিমেতালে অফিস করেন। বাকীরা রাজশাহী বসে বেতন তোলেন। ১৫ জন নার্সের মধ্যে নিয়মিত অফিস করেন ৯ জন। ৩ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের মধ্যে ১ জন অফিস করেন। পিয়ন ও ওয়ার্ড বয়দের ক্ষমতার দাপটের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একই চিত্র উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও। ফলে তানোর অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের চিকিত্সা সেবা হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অপরিচিত একব্যক্তি মুন্ডুমালা রাস্তায় বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পথচারীরা তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট থাকায় মিশুকযোগে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এছাড়া সম্প্রতি উপজেলার পাকচাঁদপুর গ্রামের আরেক ব্যক্তি অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে কোন ডাক্তার ও পিয়নের দেখা না পেয়ে রোগীর লোকজন হৈচৈ শুরু করেন। এসময় ওয়ার্ড থেকে একজন মহিলা ডাক্তার নেমে এসে তাদের বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন। তাই জরুরি বিভাগের পিয়ন ও আয়ারাও থাকেন না। ফলে জরুরী বিভাগও শুক্রবার বন্ধ থাকে। পরে স্বজনরা তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হন। একই সময়ে আকচা বানিয়ালপাড়া গ্রামের এক নারী জরুরি বিভাগে চিকিত্সা নিতে আসলে তাকেও রাজশাহী মেডিক্যালে যেতে বলা হয়। রোগীর অভিভাবকরা পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের নানা অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে জানান, বিছানার ব্যবহূত চাদও, তোয়ালেগুলো অত্যন্ত নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত। রোগীদের খাবার অত্যন্ত নিম্নমানের। বাথরুম ব্যবহারের অনুপযোগী থাকায় ওয়ার্ডের প্রবেশমুখেই রোগীর স্বজনরা মূত্রত্যাগ করে। এসব দেখভালের জন্য ওয়ার্ডবয় থাকলেও তারা ডিউটির নামে বসে থেকে সময় কাটায়। তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার শাহানা আলম বলেন, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত করা যাচ্ছে না। বরাদ্দ আসলে অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা হবে। শুক্রবার জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকার কথা অস্বীকার করে কর্তব্যরত ডাক্তার ও কর্মচারীদের উদাসীনতার বিষয়টি ‘ইন্টারনাল ব্যাপার’ বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেন।