ইউক্রেনের স্বায়ত্তশাসিত উপদ্বীপ ক্রিমিয়ায় অবস্থান করা সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণের আল্টিমেটামের খবর অস্বীকার করেছে রাশিয়া। এর আগে কৃষ্ণ সাগরে অবস্থান করা রাশিয়ার ব্ল্যাক সি ফ্লিট’র অধিনায়ক আলেকসান্দর ভিতকো সময়সীমা বেঁধে দেন বলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভ্লাদিস্লাভ স্লেজনেভ জানিয়েছিলেন। ক্রিমিয়ায় আক্রমণ করা নিয়ে দেশ দুটির পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেল। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স ব্ল্যাক সি ফ্লিটের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ক্রিমিয়ায় ইউক্রেন সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। মস্কো জানিয়েছে, ক্রিমিয়ায় বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে তাদের সেনাবাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে ইউক্রেনের চলমান সমস্যা সমাধানে আলোচনার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইউক্রেন যাচ্ছেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন, এপি ও এএফপি’র।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, তাদের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৯টা) ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণের সময় দিয়েছেন আলেকসান্দর ভিতকো। আত্মসমর্পণ না করলে ইউক্রেনকে রুশ সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে পড়তে হবে। এদিকে রাশিয়াপন্থী বিক্ষোভকারীরা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দোনেটেস্ক শহরের আঞ্চলিক সরকারের পার্লামেন্ট ভবন দখল করে নিয়েছে। এসময় সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে একটি আইন পাস করছিল। তবে বিক্ষোভকারীরা কিয়েভ থেকে দোনেটেস্ককে বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানানোর পর পার্লামেন্টের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। অন্যদিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনী ক্রিমিয়ার সব সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ইউক্রেনের দুটি যুদ্ধ জাহাজের সেনারা আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগে রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ইউক্রেন থেকে সেনা সরানো হবে না। বরং ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে মস্কো। পশ্চিমাদের সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান উপেক্ষা করে রাশিয়া ওই এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ করায়ত্ত করছে। ক্রিমিয়ায় নতুন করে পৌঁছেছে কয়েক হাজার রুশ এলিট সেনা। তাদের সংখ্যা ইতিমধ্যে ইউক্রেনের সেনা সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ক্রিমিয়া মূলত এখন রুশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।
ইউক্রেনের দুটো বড় সামরিক ঘাঁটি ঘিরে রেখেছে রুশ সেনারা। একইসঙ্গে বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোও তাদের দখলে চলে গেছে। রাশিয়ার কার্চ স্ট্রেইট এ একটি ফেরিঘাটের কাছে রাশিয়া সাজোঁয়া যান প্রস্তুত করেও রেখেছে। তবে কোনো যান ফেরিতে তোলা হবে কিনা তা জানা যায়নি। কৃষ্ণ সাগরেও রাশিয়ার আরো জাহাজের আনাগোনা দেখা গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে কিছু মোবাইল ফোন সার্ভিস। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভ বলেছেন ইউক্রেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়ে আসা পর্যন্ত সেনাবাহিনী ইউক্রেনে অবস্থান করবে। তবে ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, সার্বভৌমত্ব লংঘন করে রাশিয়া জবরদস্তিমূলকভাবে ইউক্রেনে সেনা নিয়ে ঢুকেছে।
