মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) এলাকার অধিকাংশ বহুতল ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। এসব স্থাপনার অধিকাংশেরই নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। এছাড়া ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জায়গার মালিকেরা কোনো ধরনের জমি ছাড় দেননি। এ কারণে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় এসব ভবনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সহজে পৌঁছতে পারেন না, ফলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে সাতটিতে নেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। তারা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন বহুতল ভবনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুসিকের এক প্রকৌশলী বলেন, নগরীতে গত ১০ বছরে অন্তত ৫শ বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নগর কর্তৃপক্ষ ১৬ তলা পর্যন্ত ভবনের অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু ১৬ তলা পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এতে নগরীর অধিকাংশ বহুতল ভবন ভাড়াটিয়া ও বাসিন্দাদের কাছে আতঙ্কের ভবন হয়ে আছে। এদিকে কুমিল্লার ১৭টি উপজেলার মধ্যে সাতটিতে এখনো ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন নেই, এগুলো হচ্ছে মনোহরগঞ্জ, দেবিদ্বার, ব্রাহ্মণপাড়া, মেঘনা, তিতাস, বুড়িচং ও লালমাই উপজেলা। এসব উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ কুমিল্লা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ বলেন, সাততলা থেকে ওপরের দিকের সকল ভবনকে বহুতল ভবন বলা হয়। কুমিল্লা নগরীতে এ ধরনের অনেক বহুতল ভবন আছে। এসব ভবনের বেশির ভাগের মধ্যেই অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা নেই। আগুন লাগলে ৯তলার বেশি উঁচুতে পৌঁছানোর মতো মই কিংবা সরঞ্জাম এখানে নেই। তাই বহুতলার অধিকাংশ ভবন বিপজ্জনক, এজন্য নগর কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
সাত উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, জেলার লালমাই উপজেলা ছাড়া অপর ছয়টিতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো তৃতীয় শ্রেণির স্টেশন হবে। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা থাকায় একটু দেরি হচ্ছে। তবে বুড়িচংয়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
কুসিক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, জমির মালিকরা ভবন নির্মাণের সময় নগর ভবনে এক ধরনের নকশা অনুমোদন করতে আসেন এবং কাগজপত্রও জমা দিয়ে নকশা অনুমোদন করিয়ে নেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, তারা ওই নকশার ধারেকাছেও নেই বা থাকেন না। এক্ষেত্রে কেউ ৬ তলার অনুমোদন নিয়ে ৮ বা ৯ তলা ভবন নির্মাণ করছেন, আবার কেউ ৮ বা ৯ তলার অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ করছেন ১১ তলা ভবন। কেউ একটি ভবনের সঙ্গে আরেকটি ভবনের মাঝখানে নিয়মানুযায়ী জায়গা ফাঁকা রাখতে চান না। তারা বিল্ডিং কোডও মানছেন না। এসব কারণে তারা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। আমরা অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত ভবনগুলো শনাক্তের কাজ করছি। কাজ শেষে এগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করা হয়েছে। এছাড়া বহুতল ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা আছে কি না তা খতিয়ে দেখে তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
