নির্যাতিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সমাজে পুনর্বাসিত করতে উদ্বোধন হলো ‘ক্যাফে জয়িতা’র। ক্যাফে জয়িতা পরিচালিত হবে দুস্থ নির্যাতিত নারীদের দ্বারা। ক্যাফে থেকে অর্জিত লভ্যাংশ ও ব্যয় করা হবে ঐ নির্যাতিত নারীদের কল্যাণে। মঙ্গলবার ইস্কাটনের মহিলা অধিদপ্তরে এই ক্যাফের উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। তিনি বলেন, ‘ক্যাফে জয়িতা’র মান ও বিশুদ্ধতাকে নিশ্চিত করে এটি একটি ব্রান্ডে পরিণত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহিলা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক উল ইসলাম ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশ মিশন প্রধান শরত্ দাস।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্যাতিত নারীদের পাশে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সর্বদা আছে। তাদের কল্যাণে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে যেন নির্যাতিত নারীর সংখ্যা কোনভাবে বৃদ্ধি না পায় তার জন্যে কাজ করবে।
মো. আশরাফ হোসেন বলেন, প্রথম বছর ঢাকা শহরে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি কর্পোরেট অফিসে ন্যূনতম দশটি ক্যাফে জয়িতা চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে খাদ্য ব্যবসায় একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হিসেবে ক্যাফে জয়িতা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, পাচার ও নির্যাতনের শিকার নারীরা উদ্ধারের পর অনেক সময় সামাজিক অনেক কুসংস্কারের কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে না। অনেক সময় তাদের পরিবার ও তাদেরকে ভালভাবে গ্রহণ করতে চায় না। পরবর্তীতে তাদের জায়গা হয় কোন পুনর্বাসন কেন্দ্রে। ফলে তারা কাজ করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। মানসিক যন্ত্রণায় ভোগে। এই সমস্ত নারীরা যাতে নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারে, এ লক্ষ্যেই খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশনে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে ওই নারীদের এবং ক্যাফে জয়িতায় তাদের কর্মসংস্থান করা হবে।
এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, নির্যাতিত নারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে এবং ক্যাফে পরিচালনার তত্ত্বাবধান করবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্যাফে জয়িতা স্থাপনে সার্বিক সহযোগিতা করবে।
