অব্যাহত থাকুক বাংলা ভাষাপ্রীতি

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৪, ২১:৪৩
চলতি বছরের জন্য আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গেলো মহান ভাষা-আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি। নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা-সমালোচনা, বিতর্ক, গ্রন্থমেলা আয়োজিত হলো প্রতিবারের মতো এবারও। লক্ষ করবার বিষয় হলো—এসব থেকে আমরা কী অর্জন করলাম, কতটুকু অর্জন করলাম? শুধু ফেব্রুয়ারি মাস এলেই আমরা বাংলা ভাষা নিয়ে আলোচনা আর সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠি। একদল লেখক একুশের চেতনা নিয়ে সরব হয়ে ওঠেন, পত্র-পত্রিকার পাতা ভরে ওঠে বাহান্নর ভাষাশহিদ ও বাংলা ভাষার বন্দনায়। প্রচার মাধ্যম ও আলোচনাসভার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ভাষা-আন্দোলন। এই তাত্ক্ষণিক ও সাময়িক উদ্যোগ কিছুটা হলেও বাঙালি মননে একুশের চেতনাকে জাগ্রত করে সন্দেহ নেই। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে, মাতৃভাষা বাংলা বাঙালির একটি জীবনব্যাপী অনুষঙ্গ। এর রয়েছে সুবিশাল অতীত, অন্তহীন প্রেক্ষাপট এবং গৌরবমণ্ডিত ইতিহাস। জাতীয় জীবনে একুশের তাত্পর্য খুবই অর্থবহ। এখান থেকে বাঙালির জাতীয় জীবনে যে গতিশীল চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তাই একদা পর্যায়ক্রমে স্বাধিকার, স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের রূপ পরিগ্রহ করেছিল। তরুণ প্রজন্মের কাছে সামগ্রিকভাবে পৌঁছে দিতে হবে ভাষা-আন্দোলনের গৌরবমণ্ডিত ইতিহাস। প্রচার মাধ্যম, পত্র-পত্রিকা, আলোচনাসভা ও বিভিন্ন আয়োজনে বছরব্যাপী বাংলা ভাষা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। প্রাণবন্ত বাংলা ভাষাকে আরো গতিশীল এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ করাসহ সর্বত্র বাংলা ভাষা ব্যবহারে কী করণীয় হতে পারে তার উদ্যোগ জোরালোভাবে গ্রহণ করতে হবে রাষ্ট্রকেই। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভাষী প্রতিটি সচেতন নাগরিককে মাতৃভাষা বাংলা ব্যবহারের প্রতি আন্তরিক, দায়িত্বশীল ও নিবেদিত হতে হবে। ঢাকা