অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও গ্রুপিং ভুলে বড়লেখায় দীর্ঘ নয় বছর পর বিএনপির দুই গ্রুপ এক মঞ্চে উঠেছে। উপজেলা নির্বাচনের ফসল ঘরে তুলতে তারা এখন একাট্টা। এক মঞ্চে উঠে দু’গ্রুপের নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, যে কোন মূল্যে উপজেলা নির্বাচনে ঐক্য অটুট রেখে বিএনপি’র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার। এদিকে হঠাত্ করে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন ঘোঘণা দেয়ায় আওয়ামী লীগ অনেকটা বেকায়দায় পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে আওয়ামী লীগের প্রতি এক প্রকার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। দলটির সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পুত্র নাসের রহমান গ্রুপ ও কেন্দ্রীয় নেতা খালেদা রাব্বানী গ্রুপের নেতা-কর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধ। গত বৃহস্পতিবার শহরের মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে তারা সভাও করেছেন। ফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী আর আওয়ামী লীগের বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন এমপির প্রেষ্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে আব্দুল হাফিজ সভাপতি ও ফজলুল হক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ কমিটিকে মেনে নিতে না পেরে দলের ক্ষুব্ধ নেতারা ভিতরে ভিতরে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন। ২০০৬ সাল থেকে উপজেলা বিএনপির দারাদ (পাল্টা উপজেলা কমিটির সভাপতি) ও হাফিজ গ্রুপ পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন শুরু করে। এমনকি গ্রুপের নেতাকর্মীরা পরস্পরের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ করে দেন। ফলে দলীয় কোন্দল আর গ্রুপিংয়ে জর্জরিত হয়ে পড়ে উপজেলা বিএনপি।
এর ধারাবাহিকতায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলের পক্ষে মনোনয়ন দাখিল করেন বিএনপির দুই কমিটির দুই সভাপতি আব্দুল হাফিজ ও দারাদ আহমদ। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগের দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দুই গ্রুপ ঐক্যে পৌঁছায়। সে অনুযায়ী পরদিন হাফিজকে সমর্থন দিয়ে দারাদ আহমদ মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী জানান, উপজেলা বিএনপির দীর্ঘ দিনের গ্রুপিং নিরসন হয়েছে তারই পরামর্শে। দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সবাই অতীতের ভেদাভেদ ভুলে এখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
