আন্দোলনের নামে খুন-খারাবির বিচার হবেই :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা এবং খুন-খারাবি ছিল বিএনপি-জামায়াতের একটি খেলা। যারা বোমা মেরে পুলিশ-র্যাব-বিজিবি ও সেনা সদস্য হত্যা করেছে এবং আগুনে পুড়িয়ে যানবাহনের চালক-হেলপারসহ সাধারণ মানুষকে মেরে দেশের এত বড় সর্বনাশ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলের উদ্দেশ্য ছিল হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনকে হত্যা করা। তারা পুলিশের ১৬ জন, বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) ২ জন এবং একজন সেনা সদস্যকে হত্যা করে। সাধারণ মানুষ তাদের এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি। শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলনের সময় নিত্যপণ্যের সরবরাহ সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়ায় তারা খুব বেশি সফল হতে পারেনি। আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছি বলেই, যতটা খারাপ হওয়ার কথা, ততোটা হয়নি। তাদের সকল অপকর্ম ব্যর্থ করে দিতে আমরা সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াতের দেশের প্রতি কোনো দায়িত্ববোধ নেই। থাকলে তারা এভাবে মানুষ পুড়িয়ে মারতে পারতো না। আমরা এটাও দেখলাম, আগুনে পুড়ে বাসের চালক, হেলপার ও যাত্রীরা চিত্কার করছে, আর জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা হাসছে। কাজেই এদের বিচার তো অবশ্যই হতে হবে। পিরোজপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র এমপি ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ যে কোনো অবস্থা মোকাবেলার সাহস ও মনোবল আমাদের আছে। ইন্শাল্লাহ আমরা দেশকে এগিয়ে নেয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, তা অর্জনে সফল হবো। সংসদের মাধ্যমে দেশবাসীকে আমি সেই আশ্বাস দিচ্ছি। রুস্তম আলী তার প্রশ্নে বলেন, দুর্নীতি রোধ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার এ সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও কম নয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশি-বিদেশি প্রচুর বিনিয়োগ দরকার। আর বিনিয়োগের জন্য দরকার সুশাসন। প্রধানমন্ত্রী এসব চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবেলা করবেন? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকারের দায়িত্ব নিই, তখন বাংলাদেশ একটি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আমরা দুর্নীতি হ্রাস করি। যা সারাবিশ্বের কাছে স্বীকৃত হয়। মানুষের জন্য কিছু করাই আমাদের লক্ষ্য। ডা. ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর একদিকে ছিল বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব। অন্যদিকে ছিল আগের বিএনপি-জামায়াত সরকারের খুন-খারাবি এবং মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির কারণে বিপর্যস্ত অবস্থা। পরের দুই বছর তত্ত্বাবধায়কের আমলে ছিল আতঙ্ক। তখন ব্যবসায়ীসহ সবাই আতঙ্কে ছিলেন। কাজেই তখন একদিকে দুর্নীতি ও খুন-খারাবি প্রতিরোধের এবং আরেকদিকে আতঙ্ক কাটানোর চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের সামনে। সেটা যখন মোকাবেলা করতে পেরেছি, এবারও পারবো। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের লক্ষ্য রাজশাহী-৪ আসনের আওয়ামী লীগের এনামুল হকের একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ অন্যতম। ২০২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে বিদ্যুত্ যাবে এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা বর্তমান ১০ হাজার মেগাওয়াট থেকে ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। বিদ্যুত্ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর বর্তমান হার ৬২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২০২১ সালের মধ্যে সবার বাড়িতে বিদ্যুত্ পৌঁছানোর লক্ষ্যও রয়েছে সরকারের। ২০২১ সালে মধ্য আয়ের এবং ’৪১ এর দিকে উন্নত দেশ হবে রাজশাহী-৪ আসনের এনামুলের একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্য আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের দিকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের পর যতদ্রুত সম্ভব জনসংখ্যার সমগ্র অংশের জন্য আবাসন সুবিধা প্রদানের এবং নাগরিক সুবিধা সম্পন্ন পল্লীনিবাস নির্মাণেরও লক্ষ্য রয়েছে তার সরকারের। এছাড়া সরকারের লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারকরণের অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে পেনশন ব্যবস্থা প্রচলনের উদ্যোগ শুরু এবং ২০২১ সালের মধ্যে একটি জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা।