দাবি এবার পুলিশ ডিভিশন

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৩
অনেক প্রাপ্তির পর এবার দাবি পুলিশ ডিভিশন। আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্যে এ দাবির কথা থাকবে বলে আশা করছেন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (পিবিসিটি) কার্যক্রম ও পুলিশ বাহিনীতে আরো ৫০ হাজার জনবল নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠান শেষ হবে ৯ মার্চ। পুলিশ সদর দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার কারণেই পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক, গতিশীল ও যুগোপযোগী করতে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পূরণ হয়েছে পুলিশের অনেক ন্যায্য দাবি। পুলিশ ফিরে পেয়েছে হারানো গৌরব আইজিপির র্যাংক ব্যাজ- যা ২৮ বছর আগে কেড়ে নেয়া হয়েছিল। পুলিশের ঐ কর্মকর্তা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্যই প্রয়োজন পুলিশ ডিভিশন- যা নিয়োগ, বদলি, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণ করবে, কাজে আরো গতি আসবে। তিনি আরো বলেন, মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সরকার এসআই, সার্জেন্ট পদকে দ্বিতীয় শ্রেণী ও ইন্সপেক্টর পদকে প্রথম শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে উন্নীত করেছে। বাড়ানো হয় ৬১৪টি ক্যাডারসহ ৩২ হাজার জনবল। সৃষ্টি করা হয় পুলিশ বিভাগের ৩টি গ্রেড-১ পদ। গঠন করা হয়েছে শিল্প পুলিশ, স্পেশাল পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও পর্যটন পুলিশ। এছাড়া নৌ-পুলিশ, ক্যাম্পাস পুলিশ গঠন প্রক্রিয়া শেষ পর্যায় রয়েছে। বাড়ানো হয়েছে ঝুঁকি ভাতা। অন্যদিকে কর্তব্যরত অবস্থায় আহত হলে অনুদান সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ এবং নিহত হলে অনুদান তিন লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে পাঁচ লাখ টাকা করা হয়। বাড়ানো হয় সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি বিধানে বিভিন্ন পদকের সম্মাননা ভাতা। দেশে ১৬ কোটি মানুষের বিপরীতে পুলিশ বাহিনীর বর্তমান জনবল ১ লাখ ৫৪ হাজার। পুলিশ সপ্তাহে এবার পদক পাচ্ছেন র্যাব ও পুলিশের ১০৫ সদস্য- যা পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এদের মধ্যে ১৬ জন পাচ্ছেন মরণোত্তর পুলিশ পদক। ২০১৩ সালে পদক পেয়ে ছিলেন পুলিশ ও র্যাবের ৬৭ সদস্য। অনুষ্ঠান সূচি আজ সকাল সাড়ে আটটায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বার্ষিক প্যারেড দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর সাড়ে ১২টায় বঙ্গভবনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি। বিকাল চারটার দিকে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের আইসিসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। রাত আটটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিনার। ৭ মার্চ আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধ সংক্রান্ত মতবিনিময়। ৮ মার্চ বিকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইজিপির মতবিনিময়, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সভা। ৯ মার্চ ফাইনাল শীল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতা, শীল্ড প্যারেড পুরস্কার বিতরণ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সম্মেলন, প্রীতিভোজ, পুলিশ অফিসার্স মেসের বার্ষিক সাধারণ সভা ও পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমিতির সাধারণ সভা এবং সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পুলিশ সপ্তাহ। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন: আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম প্রহরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স-এ প্রতিরোধকারী বীর পুলিশ সদস্যদের। তাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ জাতিকে গৌরবান্বিত ও মহিমান্বিত করেছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব পুলিশ বিভাগের উপর অর্পিত। বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত বছরগুলোতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশ বাহিনী যেমন সাফল্য দেখিয়েছে তেমনি সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা প্রতিরোধ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা বিধানে গৌরবময় ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে বিশ্ববাসীর প্রশংসা অর্জন করেছে। আশাকরি পুলিশের আধুনিকায়ন ও সদস্যদের দক্ষতা বাড়িয়ে পুলিশকে আরও জনমুখী ও জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন: পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। পুলিশ বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে সর্বপ্রথম ঢাকার রাজারবাগে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দেশকে স্বাধীন করায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। পুলিশ বাহিনীর বীর সদস্যগণ যাঁরা দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উত্সর্গ করেছেন তাঁদের স্মৃতির প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন, আর্থ-সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার মাধ্যমে সরকারের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যগণ সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। আশাকরি, জনবান্ধব পুলিশী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য পেশাদারিত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করবেন। নিষ্ঠাবান সেবক হিসেবে সেবা প্রত্যাশীদের সর্বোত্তম আইনগত সহায়তা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করবেন।