ভারতের মাটি থেকে বাংলাদেশের ফুটবলাররা বোধহয় কোন দিনও ম্যাচ জিতে আসতে পারবেন না। ভারতীয় ফুটবলাররা যত ভালো খেলুক কিংবা মন্দই খেলুক না কেন তাদের উপর রেফারির অদৃশ্য হাতের স্পর্শ থাকেই। এবারও সেটা হয়েছে। রেফারির আশীর্বাদ নিয়ে আবার ভারত ও বাংলাদেশের ২-২ গোলে ড্র হলো।
ভারতের গোয়ায় ফিফা প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তে গোল করল। সেটা বাতিল করে দিলেন ভারতীয় রেফারি রাহুল। ৩-২ গোলের নিশ্চিত জয়টি কেড়ে নিলেন রেফারি।
পিছিয়ে থেকে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৯০ মিনিটে ভারতের সুনীল ছেত্রী গোল করে সমতা আনলেন ২-২। রেফারি অতিরিক্ত ৫ মিনিট সময় দিলেন। বদলি ফুটলার তকলিস আহমেদ ৯৪ মিনিটে বল নিয়ে ঢোকার সময় ভারতীয় গোলকিপার কারনজিত সিং গোলপোস্ট ছেড়ে দৌড়ে এসে সরাসরি তাকে আঘাত করে ফেলে দেন। তারপরও তকলিস মাটি থেকে উঠে গিয়ে গোল করেন। কিন্তু রেফারি গোল বাতিল করেন। সাথে গোলকিপারকে লাল কার্ড দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। ফুটবল আইনের তোয়াক্কা না করে রেফারি বাংলাদেশের গোল বাতিল করলেন।
গত সেপ্টেম্বরে নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও জয় পায়নি, ১-১ গোলে ড্র হয়। সেবারও ম্যাচের অতিরিক্ত ৫ মিনিট দিলেন রেফারি। সেখান থেকে সুনীল ছেত্রী গোল করলে নিশ্চিত হার রক্ষা থেকে পায় ভারত। গতকালও সেটাই হয়েছে।
ভারতের আমন্ত্রণে খেলতে গিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচের ১৫ মিনিটে গোল হজম করে। বক্সের বাইরে রায়হান হাসান সহজ বল ধরতে গেলেন। ডেনমার্ক প্রবাসী বাঙ্গালি ফুটবলার জামাল ভুঁইয়া অযথাই দৌড়ে গিয়ে হেড করলেন। নিজেও বল পেলেন না, রায়হান হাসানও বল পেলেন না। জামালের ভুলের কারণে বল গিয়ে পড়ল সুনীল ছেত্রীর পায়ে। সুযোগ সন্ধানী এই ফুটবলার চোখের পলকে বাংলাদেশের জালে বল পাঠিয়ে দিলেন ১-০। ভালো খেলে ৫২ মিনিটে গোল ফিরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সোহেল রানার নিচু ক্রসের বল হেমন্ত ভিনসেন্ট পা দিয়ে মোড় ঘুরিয়ে দিলে স্ট্রাইকার মিঠুন চৌধুরী দারুণ গোল করেন, সমতা আনেন ১-১।
বাংলাদেশ হতাশ না হয়ে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। ভারতের রক্ষণ ভেঙ্গে দিয়ে গোলেরও দেখা পায় ৬৫ মিনিটে। হেমন্ত বল নিয়ে ক্রস করেন মিঠুনকে। মিঠুন পা লাগানোর আগেই ভারতের ডিফেন্ডার অর্ণব কুমার মন্ডলের পায়ে লেগে নিজেদের জালে ঢুকে যায় ২-১। এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। তারপরও বরাবরের মতোই বাংলাদেশ খেলার শেষ মুহূর্তে গিয়ে নিজেদের রক্ষা করতে পারছিল না। গোলকিপার সোহেল তিনবার নিশ্চিত গোল ঠেকালেন। ম্যাচের ৯০ মিনিটে আবার সেই অপ্রতিরোধ্য সুনীল, বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করলেন, সমতা আনলে ২-২।
এবার অতিরিক্ত সময়ে রেফারি নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিলেন। দুই দেশের ফুটবল দর্শকরা দেখলেন। বাংলাদেশের গোল বাতিল করে ভারতকে রক্ষা করলেন। বাংলাদেশের জয় ছিনিয়ে নিলেন রেফারি।
