আজ ৬ মার্চ যশোরের উদীচী হত্যাযজ্ঞের ১৫তম বার্ষিকী। ১৯৯৯ সালের এই দিনে টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সম্মেলনে চালানো হয় বর্বরোচিত বোমা হামলা। এতে নিহত হন নূর ইসলাম, নাজমুল হুদা তপন, সন্ধ্যা রানী ঘোষ, ইলিয়াস মুন্সী, রতন রায় ও রামকৃষ্ণসহ ১০ জন। আহত হন দুই শতাধিক নারী-পুরুষ। কিন্তু নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় গত ১৫ বছরেও দোষীদের চিহ্নিত করা যায়নি।
এদিনটি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কলঙ্কিত দিন হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবছরের মত এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে উদীচী যশোর। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্মরণসভা, মশাল প্রজ্বলন ও প্রতিবাদী গানের অনুষ্ঠান।
আদালতসূত্র জানায়, উদীচী ট্র্যাজেডি মামলায় ১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামসহ ২৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। পরে তরিকুলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তার নাম বাদ দেন। পরে ২০০৬ সালের ৩০ মে যশোরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালত ২৩ আসামিকে বেকসুর খালাস দেন।
পরে উদীচী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুনঃতদন্তের আবেদন করলে মামলাটি বর্ধিত তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডিকে। ২০০৭ সালে হরকাতুল জেহাদ নেতা মুফতি হান্নান গ্রেফতার হলে ঐ বছরের ১৯ নভেম্বর আদালতে উদীচী বোমা হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ হরকাতুল জিহাদের সদস্য বরিশালের আবুল হোসেন ও মাদারীপুরের মাওলানা আবদুর রউফকে আটক করে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দায়িত্ব পেলে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। এর প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত খালাসপ্রাপ্তদের পুনরায় আত্মসমর্পণের জন্য সমন জারির নির্দেশ দেন। পরে খালাসপ্রাপ্ত ২৩ আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এর মধ্যে ৩ জন মারা গেছেন। অবশিষ্ট ২০ আসামির মধ্যে ১৭ জন বিভিন্ন সময়ে জামিন নিয়েছেন। পরে এদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম নামে এক আসামি খুন হন। অপর ৩ জন নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আটক হন এ মামলার অন্যতম আসামি শফিকুল ইসলাম মিন্টা। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। পরে আর মামলার কার্যক্রম এগোয়নি।
উদীচী যশোর শাখার সাধারণ সম্পাদক ডিএম শাহিদুজ্জামান বলেন, ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য এ হত্যাকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটনায় গত ১৫ বছরেও কোন বিচার হল না। বর্তমানে মামলা কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। বার বার তাগিদ দেয়ার পরও জাতীয় ও স্থানীয় প্রশাসন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
এ বিষয়ে যশোর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল কাদের জানান, তারা মামলাটির কার্যক্রম গতিশীল করে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তত্পরতা চালাচ্ছেন।
