বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো শেরপুরের পানিহাটা তারানি পাহাড়-এর কথা।
বাংলাদেশের স্থলভূমি সে অর্থে পার্বত্য অঞ্চলময় না হলেও এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর উপহার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন পাহাড়ি এলাকা। আর এসব এলাকার মধ্যে অন্যতম একটি হলো শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার এবং শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে অবস্থিত পানিহাটা-তারানি পাহাড়। মূলত পানিহাটা গ্রামের একটি অংশে রয়েছে তারানি গ্রামের পাহাড়। আর এ দুয়ে মিলেই পর্যটকদের কাছে এ অঞ্চলটির পরিচিতি গড়ে উঠেছে পানিহাটা-তারানি পাহাড় নামে। পানিহাটা-তারানি পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একদিকে যেমন পর্যটকদের আকৃষ্ট করে তেমনি পাহাড়ের সান্নিধ্যে নিরিবিলি সময় কাটাতেও অনেকেই আসেন এই পানিহাটা-তারানিতে। এখান থেকেই সোজা উত্তরে তাকালে দেখা মেলে মেঘের সাথে মিতালি গড়া ভারতে তুরা পাহাড়ের। এই তুরার অববাহিকা থেকেই সোজা পশ্চিম দিকে চলে গেছে পাহাড়ি নদী ভোগাই। মূলত এই নদীর স্বচ্ছ জলের তলে পাথরের ঝিকিমিকি আর নদীর গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগাছালিতে ঢাকা উঁচু পাহাড়গুলোই পানিহাটা-তারানিকে দিয়েছে আলাদা এক সৌন্দর্য। এছাড়া পানিহাটা-তারানির আশপাশে রয়েছে ছোট ছোট অসংখ্য পাহাড়ের সারি, খ্রিস্টানদের উপাসনালয়, ছোট একটি চিকিত্সা কেন্দ্র, বিদ্যালয় আর ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হোস্টেল। পানিহাটায় আসার জন্য ঢাকা থেকে শেরপুর জেলা শহরে না এসে নকলা উপজেলা শহর হয়ে যাওয়া সুবিধাজনক। এজন্য নালিতাবাড়ি শহরের গড়কান্দা মোড় হয়ে সোজা উত্তরে প্রথমে নাকুগাঁও স্থল বন্দরের কাছাকাছি গিয়ে পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে ভোগাই সেতু পাড়ি দিতে হবে। এরপর সোজা পূর্ব দিকে প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার গেলে চায়না মোড়। এ মোড়ে এসে আবারও গতিপথ বদলে যেতে হয় উত্তরে। আর উত্তরের এ রাস্তা ধরে প্রায় এক কিলোমিটার গেলেই পৌঁছানো যাবে পানিহাটা-তারানি পাহাড়ের কাছে। নালিতাবাড়ি থেকে পানিহাটা আসার জন্য রিকশা, সিএনজি বা ভাড়ায় চালানো মোটরসাইকেল পাওয়া যায়।
