সমঅধিকার নিশ্চিতে বৈষম্য বিরোধী আইন চাই

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৪, ২২:৪১
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, দেশে কোনো ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষের প্রকৃত সাম্য নেই। গৃহ থেকে কর্মস্থল- সকল স্থানেই বৈষম্য রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমতার অভিনয় চলে। নারীদের উন্নয়নে সামাজিক বাধার পাশাপাশি রয়েছে আইনি সহায়তারও অভাব। নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে দেশে বৈষম্যবিরোধী আইন এবং এর কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। রাজনীতির সকল পর্যায়ে নারীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীতে ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। ‘রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ কর, নারীর সমতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত কর’- এ শ্লোগানকে ধারণ করে এ বছর দেশে নারী দিবস পালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, দেশে অত্যন্ত অল্প সংখ্যক নারীই নিজ নামে পরিচিত। নারীরা নিজেদের জিজ্ঞাসা করলেই, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন। সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা থাকলেও তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সংবিধানে নারী-পুরুষ সমতার কথা থাকলেও এটি এখনও তামাশা ছাড়া কিছু নয়। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, নারীবান্ধব রাষ্ট্র, আইন, সংবিধান ও ব্যবস্থা চাই। গোঁজামিলের সংবিধান দিয়ে নারীর অধিকার, নারী-পুরুষের সমানাধিকার সম্ভব নয়। ড. মিজানুর রহমান বলেন, দেশে অনেক সংখ্যালঘুই সহিংসতার শিকার হয়েছে, হচ্ছে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে আর দেরি করা উচিত হবে না। তিনি বলেন, নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করতে বৈষম্য বিরোধী আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। আইন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনসহ সংশ্লিষ্টরা আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করছেন। শিগগিরই এ আইন প্রণীত হবে। নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মেরেতো লুনডেমো বলেন, যে দেশগুলোতে এখন নারীরা অপেক্ষাকৃত ভালো মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করছে, সে দেশগুলোতেই নারীদের সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। নারীর অধিকার সহজেই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, হবেও না। এজন্য নারীকে রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, উত্পাদন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ বাড়াতে হয়। তার উন্নয়নের পথের আইনি প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, উন্নয়নের প্রধান শর্তই হলো সমতা। উন্নয়ন হলেই জাতীয় জীবনে শান্তি আসে। নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিতের পথে দেশে এখন বড় বাধা রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার। এটি বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং নারী-পুরুষের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে। এর ব্যত্যয় হওয়া চলবে না। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ, কবির হোসেন, চন্দ্রা ত্রিপুরা, সীমা মোসলেম। এছাড়া বিভিন্ন বয়সের তরুণ-তরুণীরা অনুষ্ঠানে নারী দিবস ও নারী অধিকার বিষয়ে তাদের ভাবনা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন। আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।