নয়া বাজেটে করহার নয় করের আওতা বাড়বে!

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৪, ২২:৪২
আসছে ২০২৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে কোম্পানির করহার কমানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। তিনি জানান, এটিকে আাাগামী ৫ বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে কমিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করহারের সমপর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। আগামী বাজেটে নতুন করে কোন করহার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিত্তবানরা তুলনামূলক বেশি কর দিবেন। এ জন্য কর কাঠামো সংস্কারের কথা জানান তিনি। এছাড়া বাজেটে সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কমিয়ে আনার কথাও জানান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান এসব তথ্য জানান। আগামী বাজেট প্রণয়ন ও বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতি জানাতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক সন্মেলনে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে বিড়ি, সিগারেট, জর্দা ও সাদাপাতার উপর বাড়তি শুল্ক আরোপের চিন্তা চলছে। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, নতুন বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতি ও চেম্বারের কাছে বাজেট প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে বাজেট আলোচনা শুরু করতে চায় এনবিআর। চলতি বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কমানো প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হলো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সন্তোষজনক আদায় পরিস্থিতি থাকায় বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হতো। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এ জন্য নির্বাচনের আগের তিন মাস রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করেন তিনি। কোম্পানির করহার কমানোর যুুক্তি হিসেবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে কর্পোরেট করহার সাড়ে ৩৭ শতাংশ। এটি অনেক বেশি। অন্যদিকে ব্যক্তি করহার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে কোম্পানির করহারের তুলনায় ব্যক্তির করহার বেশি থাকে। প্রধানমন্ত্রী কোম্পানির করহার কমানোর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন বলে তিনি জানান। খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব খোলা হয়নি গত এক-এগার সরকারের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাংক হিসাব খোলা হলেও আইনজীবীদের আবেদনের পরও খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব খোলা হয়নি। কী কারণে এত বছরেও তার ব্যাংক হিসাব আটকা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়ে তার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোন আবেদন পাওয়া যায়নি। আবেদন পেলে ও হিসাব আটকে রাখার যুক্তিযুক্ত কোন কারণ না থাকলে কোন ব্যক্তির হিসাব আটকে রাখার ইচ্ছা আমাদের নেই বলে তিনি জানান। মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদ খতিয়ে দেখা হচ্ছে অপর এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মন্ত্রী এমপিদের সম্পদ বিবরণী খতিয়ে দেখতে এনবিআরের আইনগত কোন বাধা নেই। এনবিআর সেটি দেখছে। এছাড়া বহুস্তর বিপণন পদ্ধতির কোম্পানি ডেসটিনির শুল্ক, কর ও ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ডেসটিনির উপর কাজ হচ্ছে। কিছু অভিযোগ সনাক্ত হয়েছে। তবে জনবল ঘাটতির জন্য কাজ দ্রুত করা যাচ্ছে না। এ জন্য এনবিআরে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।