ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার এবং ইউক্রেনের কিছু কর্মকর্তাকে কালো তালিকাভুক্ত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের হুমকির জন্য যারা দায়ী তাদের ভিসা বাতিল করবে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। যারা ইউক্রেনের বর্তমান দুর্যোগের জন্য তাদের চিহ্নিত করে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হবে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের ক্ষমতাচ্যুত মস্কোপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচসহ ১৮ জনের সম্পদ জব্দ করেছে। এদিকে ন্যাটো রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপি’র।
সংকটাপন্ন ইউক্রেনে একটি সাহায্য প্যাকেজ অনুমোদন প্রশ্নে গতকাল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অতি-আগ্রাসী রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রশ্নে সিদ্ধান্তে পৌঁছা এখনো অনেক দেরি আছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। রিপাবলিকান হাউস মেজরিটি লিডার এরিক ক্যান্টর বুধবার বলেন, তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এর পরপরই তিনি টুইটারে ঘোষণা করেন যে, কিয়েভের সংকটাপন্ন নতুন সরকারকে সহায়তা করতে তিনি পরের দিনই প্রস্তাবিত এক শ’ কোটি ডলার ঋণ সাহায্য প্রদান প্রশ্নে ভোটাভুটির আয়োজন করবেন।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার দ্বন্দ্বের জের ধরে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে কিনা তা বিবেচনা করছে ন্যাটো জোট। এমনকি সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র অকার্যকর করার জন্য যে যৌথ কার্যক্রম রয়েছে সেটিকেও বাতিল করার কথা চিন্তা করছে ন্যাটো। ন্যাটো মহাসচিব অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেন বলেছেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে রাশিয়া লঙ্ঘন করছে। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল করে ইউক্রেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের দিকে নজর দেবার কথা ভাবছে ন্যাটো। রাশিয়ার ব্যাপারে ন্যাটোর এই অবস্থানের জবাবে ন্যাটোতে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ যুগের নীতি ও কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব চাক হেগেল জানিয়েছেন, পোল্যান্ড এবং বাল্টিক অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য দেশটি অতিরিক্ত সহায়তা দেবে।
