বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের এক যুগান্তকারী অধ্যায়। সেদিন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) তিনি ভাষণে যে দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন তা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের অংকুর। এ ভাষণই সারা দেশের মানুষকে পথনির্দেশ দিয়েছিল। সাড়ে সাত কোটি বাঙালির ভবিষ্যত্, আত্মসম্মান ও অধিকার আদায়ের মন্ত্র যেন উচ্চারিত হয়েছিল সেদিন। ৭ই মার্চের ভাষণ শুনতে ঢাকার প্রতিটি বাড়ির প্রতিটি ছেলে এসে উপস্থিত রেসকোর্স ময়দানে।
শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে বসেছিল সেই ভাষণের প্রতীক্ষায়। বঙ্গবন্ধুর সেদিনের সেই ভাষণ শুধু বাংলার নয় পৃথিবীজুড়ে মানবমুক্তির আন্দোলনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী উদাহরণ। আর বঙ্গবন্ধু মানুষের সেই মুক্তির আন্দোলনের পথে চিরপ্রেরণার প্রতীক। বাঙালির অবিসংবাদিত এই নেতা ৭ই মার্চের ভাষণে কী বলেছিলেন, সেই ভাষণের দিক নির্দেশনায় বাঙালি জাতি যে মরণপণ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল- তা আজ কারো অজানা নয়।
বাংলার মানুষ সে ভাষণের প্রতিটি নির্দেশ মনে-প্রাণে গ্রহণ করেছিল। বঙ্গবন্ধু মানুষের মনের ভাষা পড়তে পারতেন। মানুষ কী চাইছে তা বুঝতে পারতেন। তা না হলে সেদিন দেশের মানুষের মনের কথা তার মুখ দিয়ে এভাবে অনর্গলভাবে প্রকাশ পেত না। বঙ্গবন্ধু মানুষের মনের ‘নার্ভ’ পড়তে পেরেছিলেন বলেই- এমন দিগন্তবিস্তারি আহ্বান জানিয়েছিলেন। সে আহ্বানে সাড়া দিয়েই দেশের মানুষ তৈরি হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের জন্য। সে জন্যই ২৫শে মার্চে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পরে দেশের মানুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি।
তবে মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথাও আমাদের ভুললে চলবে না। ভারত সরকার এবং ভারতের জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা না পেলে আমাদের এত দ্রুত এ স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হতো না। ভারতের এ সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা আমাদের স্মরণে রাখা দরকার। এখন অনেকেই ভারতের সে অবদানের কথা ভুলে যেতে চায়, এটা ঠিক না।
