শামিমা আক্তার জাহান। ডাক নাম পপি। পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির প্রথম মেয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন পপি। কথা হলো বিতর্কের এই মেয়ের সঙ্গে।
বিতর্ক নিয়ে পপি বলেন, বিতার্কিক হতে অবশ্যই মঞ্চের ভয় কাটাতে হবে। ভয় নিয়ে অনেকের আর বিতার্কিক হয়ে ওঠা হয় না। সাহস করে শুরু করা জড়তা কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট। এটুকুর জন্য চাই আত্মবিশ্বাস। ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ ধরনের মানসিকতা নিয়ে বিতর্কে ভালো করা যায় না।
যুক্তি-তর্কের মানুষ পপি। সিরাজগঞ্জের মেয়ে। বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। বাবা আবুল হাশিম ও মা ফাহমিদা খাতুন। বিতর্ক শুরু করেছেন স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকেই। সুন্দর মুখের মেয়েটা প্রথম বিতর্ক করেন নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়।
বিতর্কের কথা বলতে গিয়ে পপির ভাষ্য, সমাজের প্রতিটি স্তরে যুক্তি চর্চা খুবই জরুরি। বিতর্কের মাধ্যমে সত্যকে যেমন সুপ্রতিষ্ঠিত করা যায়, তেমনি একজন মানুষের মূল্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।
সমাজকে বদলানো যাবে কীভাবে এমন কথা বলতেই পপি জানালেন, সমাজকে বদলাতে চাইলে নিজেকে বদলাতে হবে আগে। আমরা সবাই যদি যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করি। তাহলেই সমাজটা আপনা থেকেই বদলে যাবে।
বিতর্ক মানুষকে শুদ্ধ করে। সংসদীয় বিতর্কই বেশি পছন্দ পপির। কেননা সংসদীয় বিতর্কে যুক্তি খণ্ডনের বিষয়টা বেশি থাকে। তিনি বলেন, বিতর্ক মানুষকে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে শেখাবে। মানুষকে সঠিকটা চিন্তা করার উপায় বাতলে দেবে। বিতর্কের অর্জনের মধ্যে আছে আশা ইউনিভার্সিটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃহল বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন এবং শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন। নর্থ সাউথ বিতর্ক উত্সবে রানার্স আপ।
শুধু বিতর্ক নয় নাচ, গান, উপস্থিত বক্তৃতা, আবৃত্তিতেও সমান দখল আছে পপির। আবৃত্তিতে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন দুইবার।
বিতর্কের এই তরুণ তুর্কি ভবিষ্যতে হতে চান দেশ সেরা গবেষক। নিজেই বললেন, পদার্থ বিজ্ঞানে যেহেতু পড়ছি সেহেতু নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছে আছে। পড়াশোনাটা শেষ করে তবেই না উচ্চতর গবেষণা শুরু করব।
