কাইলির বয়স তখন ১১ বছর, গানের দুনিয়াতে প্রবেশ করেন তিনি। শুধু গানেই নয়, তিনি আজ অভিনয়েও সফল। ক্যারিয়ারের শুরুটা অস্ট্রেলিয়ান টেলিভিশন সিরিজ ‘দ্য সুলিবান্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে। তরুণ এই প্রতিভাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
কাইলি মিনোগের গানের দুনিয়ায় আসার গল্পটা বেশ মজার। প্রথমে তিনি চুক্তিবদ্ধ হন টেলিভিশন সোপ অপেরা ‘নেইবরস’-এ অভিনয়ের জন্য। পরের বছর সোপ অপেরার কলাকুশলী মিলে ‘ফিজরয় ফুটবল ক্লাব বেনিফিট’ শিরোনামের একটি কনসার্টের আয়োজন করেন। উদ্দেশ্য অভিনয়শিল্পীদের তাত্ক্ষণিক প্রতিভা যাচাই। সেদিন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না কাইলি। জোর করেই স্টেজে উঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। লিটল ইভার গাওয়া ‘দ্য লুকোমোশন’ গানটি গেয়ে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। গানটি নেচেগেয়ে উপভোগ করেন অতিথিরাও। গান শেষে প্রশংসা পান সবার। সৌভাগ্যটাও সঙ্গী হয়ে যায় তখন থেকে। এরপর মাশরুম রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন লুকোমোশন গানটি রিমেক গাওয়ার জন্য। তার কণ্ঠে অস্ট্রেলিয়ায় গানটি প্রকাশ পায় ১৯৮৭ সালে। ব্যাপক আলোচিত হয় এটি। সেই সূত্রেই সুযোগ মেলে মাশরুম রেকর্ডসের হয়ে লন্ডনের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ এবং স্টক একেন ওয়াটার ম্যানের লেখা গান গাওয়ার। লন্ডন ভ্রমণ আর রেকর্ডিংয়ের কাজ শেষে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে এসে আবার ‘নেইবরস্’-এ কাজ শুরু করেন। প্রথম একক অ্যালবাম ‘কাইলি’ প্রকাশ করেন ১৯৮৮ সালে। গোল্ড অ্যালবামের খেতাব অর্জন করে এটি। বিশ্বব্যাপী এটির বিক্রি ছিল পাঁচ লাখ কপি। প্রথম অ্যালবামের বিশাল সাফল্যের পর মিনোগ স্টক এটকেন, ওয়াটার ম্যানের লন্ডনের স্টুডিওতে দ্বিতীয় এককের রেকর্ডিং শুরু করেন। ‘এনজয় ইউরসেল্ফ’ শিরোনামে এটি প্রকাশ পায় পরের বছর। এটিও ইউকে টপ চার্টের শীর্ষ স্থানটি দখল করে। বিক্রি হয় মোট সাড়ে তিন মিলিয়ন কপি। ১৯৯০ সালে এটি চার বার প্ল্যাটিনামের খেতাব অর্জন করে। ওই বছর প্রকাশ করেন তৃতীয় একক ‘রিদম অব লাইফ’। এটিও সফলতার মুখ দেখে। তারপর থেকে একে একে ‘লেটস্ গেট টু ইট’ (১৯৯১), ‘কাইলি মিনোগ’ (১৯৯৪), ‘ইম্পোসিবল প্রিন্সেস’ (১৯৯৭), ‘লাইট ইয়ারস’ (২০০০), ‘ফিভার’ (২০০১), ‘বডি লেঙ্গুয়েজ’ (২০০৩) এবং ‘এক্স’ (২০০৭)। কাইলি মোট পাঁচ বার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য নমিনেশন পান। তার মধ্যে ‘ফিভার’ অ্যালবামের ‘কাম ইনটু মাই ওয়ার্ল্ড’ গানটির জন্য ‘বেস্ট ড্যান্স রেকর্ডিং’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জেতেন। স্তন ক্যান্সারের জন্য গত তিন বছর কোনো একক অ্যালবাম প্রকাশ করেননি তিনি। কাইলি ১১তম একক ‘অ্যাপরোডিট’ শিরোনামে প্রকাশ পায় গত বছরের এপ্রিলে। প্রকাশের পরই ‘অল দ্য লাভারস’ গানটি সাড়া ফেলে সারা বিশ্বে। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের দর্শকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুতে সুলিভানসে অভিনয়ের পর থেকে ‘স্কাইওয়ে’, ‘দ্য ভিকার অব ডিবলে’, ‘দ্য এক্স ফ্যাক্টর’ ও ‘সেটারডে নাইট লাইভ’ ছাড়াও টেলিভিশনের বেশ কিছু নাটক ও সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন কাইলি। ১৯৮৯ সালে ‘দ্য ডেলিনকুয়েন্টস্’-এর মাধ্যমে তার অভিষেক হয় চলচ্চিত্রে। দর্শকনন্দিত হয় এটি। পাঁচ বছর পর অভিনয় করেন ‘স্ট্রিট ফাইটার’-এ। ‘হেরাইড টু হেল’ ও ‘মিসফিট’ শিরোনামের দুটি শর্ট ফিল্মেও অভিনয় করেন। ভারতের ‘ব্লু’ সিনেমাতে একটি গান গেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান এই গায়িকা। গানটির সঙ্গে পর্দায়ও দেখা গেছে তাকে। অস্ট্রেলিয়ান এই জনপ্রিয় গায়িকা সম্প্রতি লন্ডনে একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে পুরস্কার নিতে এসে ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে নিজের পারফর্মেন্সের স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ‘আমি এখনও সেই দিনটির কথা ভেবে পুলকিত বোধ করি। কারণ, নিজের দেশে এ রকম একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করা যেমন গর্বের, তেমনি হাজার হাজার দর্শকের সামনে সেন্টার স্টেজে পারফর্ম করাটা সম্পূর্ণ আলাদা।’ এবারের লন্ডন অলিম্পিকে পারফর্ম করবে কোল্ড প্লে, স্নো পেট্রোল, ব্লার এবং ডুরান ডুরানের মতো জনপ্রিয় ব্রিটিশ ব্যান্ডগুলো। কাইলি মনে করেন, তাদের জন্য এটি হবে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
