মাশরুমের দুরবস্থা নিয়ে অশ্রুবিজড়িত একটি লেখা লিখে আমি বাংলাদেশ ছেড়েছি। লেখাটি কয়েকটি দৈনিকে ছাপা হয়েছিল। লেখার সঙ্গে আমার ইমেইল এড্রেস থাকাতে আমি অনেক মেইল পেয়েছি। আনেকেই বলেছেন—সমস্যার কথা বলেছেন ভালো কথা, কিন্তু সমাধানের পথ কী? এদিকে মালয়েশিয়ায় আমার বর্তমান আবাসস্থল চেরাফে অবস্থানকারী আমার স্বজনরা বিশ্বাসই করতে পারছে না আমি মাশরুম ব্যবসা বাদ দিয়ে মালয়েশিয়া চলে এসেছি। আমার এক বন্ধু আমাকে এখানকার একটি চেইন শপে নিয়ে গিয়েছিল। টেসকো চেইন শপ। বলা যায় আমাদের চারটি বসুন্ধরা সিটিকে অনায়াসে এখানে ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে। টেসকো চেইন শপে আমি বিভিন্ন রকম মাশরুম দেখে একেবারে বাকরুদ্ধ। ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। আমি মালয়েশিয়া এসেও মাশরুম ভুলতে পারছি না।
আমি একজন সাধারণ মাশরুম চাষি। আমি কী পরামর্শ দেবো সরকারকে? এছাড়া আমি কৃষি বিভাগের কাউকে চিনি না। কিন্তু একজনকে চিনি, যিনি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করছেন। শুনেছিলাম প্রকল্পকালে তাঁকে সাভারে আনা হবে। ভেবেছিলাম এই সুবাদে আমার নিরন্তর পরিশ্রমের মাশরুম ফার্মে হয়তো এই মহান মানুষটির পদার্পণ হবে। কিন্তু হয়নি। কারণ দায়িত্বপ্রাপ্তদের কারো মাথায় মাশরুম ছিল না, ছিল অন্যকিছু। লেখাটি যখন তৈরি করছি তখন তাঁর কথাই বারবার আমার মনসপটে ভেসে উঠছে। তিনি আমাদের কৃষিমন্ত্রী। তিনি মন্ত্রী না থাকলে আমি একজন সাধারণ মাশরুম চাষি লেখাটি লিখতাম না।
আমার আগের লেখাটি যেদিন ছাপা হয় সেদিন বিকেল পাঁচটায় তিনজন অস্ত্রধারী মাস্তান মাশরুম অফিসে এসে প্রকল্প পরিচালককে না পেয়ে অফিস পিয়নকে তার পিস্তলটি দেখিয়ে যায়। আমি মাশরুম কেন্দ্রের সব মানুষকে হাড়ে-হাড়ে চিনি, আমার কাছে বিষয়টি জলের মতোই পরিষ্কার। জাতীয় এই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বুদ্ধিমান (?) অফিসারটি প্রকল্প পরিচালক অফিসে না থাকা অবস্থায় মাস্তানদের দিয়ে শোডাউন করিয়ে প্রকল্প পরিচালককে ভয়ভীতি দেখানোর আয়োজন করেছে এবং সম্ভবত তাঁকে খেপিয়ে আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিল। যা হোক, মাশরুম একটি বিশাল স্রোতস্বিনী নদী আর এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারগণ কেউ সাঁতার জানেন না। যে প্রতিষ্ঠানে প্রচুর গবেষণার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একজন গুরুত্বপূর্ণ অফিসার প্রাইভেট বিশ্বাবদ্যালয় থেকে এমএস করার সময় থিসিসের জন্য কোনো এক্সপেরিমেন্ট করেননি এবং একইভাবে কোনো এক্সপেরিমেন্ট ছাড়া বিতর্কিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাতারাতি পিএইচডি করেন সেখানে ভালো কিছু আর হতে পারে না। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পাঠ শেষ করা কেউ যখন কোনো প্রকল্পে কাজ করতে পারে না তখন বুঝতে হবে সেখানে ভালো কিছু হওয়া সম্ভব নয়। মন্ত্রণালয়কে ভাবতে হবে কেন মাশরুম এগোতে পারেনি।
একজন চাষি হিসেবে আমার একটি পরামর্শ—মাশরুমের জন্য উদারমনা মেধাবী লোক দরকার যার খামারবাড়িতে এবং সচিবালয়ে কোনো আত্মীয় নেই। দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা না থাকলে এই কম্ম সফল হবে না।
মালয়েশিয়া
