দেড় দশকেও ‘গার্মেন্টস পল্লী’ পায়নি চট্টগ্রাম

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৩
প্রায় দেড় দশক ধরে শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য চট্টগ্রাম নগরীতে ‘গার্মেন্টস পল্লী’ গড়ে তোলার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে সভা-সমাবেশে প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। খুব শীঘ্রই যে গার্মেন্টস পল্লীর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে তারও কোনো বিশেষ লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিজিএমইএ কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যাপারে বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কমপ্লায়েন্সের যে সব কঠিন শর্ত দেয়া হচ্ছে, সে সব শর্ত বাস্তবায়নে স্বতন্ত্র গার্মেন্টস পল্লী গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। জানা গেছে, নগরীর যত্রতত্র গার্মেন্টস কারখানা, বেসরকারি ভাড়া করা ভবনে পোশাকের রং কারখানা এবং পোশাক শিল্পের নানা ধরনের রাসায়নিক প্ল্যান্ট রাখার ব্যাপারে নগরবাসী এবং বিভিন্ন পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনের এখনো পর্যন্ত প্রবল আপত্তি রয়েছে। চট্টগ্রামের আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার আশপাশে থাকা বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানা ও প্ল্যান্টের কারণে অগ্নিকাণ্ডসহ রাসায়নিক বর্জ্য নির্গমনে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির বিষয়টি বারবার উত্থাপিত হয়েছে। এমনকি ভাড়া করা বা শিল্প মালিকদের নিজস্ব কারখানা ভবনের উপযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। গার্মেন্টস মালিক এবং বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ এসব বহুমুখী সমস্যা ও আপত্তির কথা স্বীকার করেই বলেন, দেশের এই সম্ভাবনাময় শিল্পের জন্য গার্মেন্টস পল্লী শুধু চট্টগ্রামে নয় সারাদেশেই জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন প্রয়োজন। কারণ এর সাথে লাখ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিকের কর্ম-পরিবেশ এবং জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পৃক্ত। বিজিএমইএ’র প্রথম সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম মঞ্জুরুল আলম সম্প্রতি কালুরঘাট এলাকায় গার্মেন্টস পল্লীর জন্য ১২ একর ভূমি প্রদান করেছেন। এটি একটি শুভ সূচনা হলেও এখানে মাত্র ২২টি গার্মেন্টস কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। অথচ চট্টগ্রামে বর্তমানে ৫৮০টি গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে সচল ও উত্পাদনে আছে ২শটি কারখানা। তিনি জানান, ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস পল্লীর জন্য দুটি স্থানে ভূমি প্রদান এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ১শ একর ভূমি প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছিল। এসব প্রতিশ্রুত ভূমি পাওয়া গেলে হাসপাতাল, শ্রমিকদের ডর্মেটরি, ফায়ার স্টেশন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র এবং পরিকল্পিত কারখানা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা বিজিএমইএ’র রয়েছে। তিনি ভূমি প্রদানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহের প্রতি আহবান জানান।