দুই অবোধ শিশু অর্পা ও আদৃতাকে রেখে পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে বাবা-মা। তারা যে আর কোনোদিনই ফিরে আসবে না তা কিছুটা বুঝতে পারছে ৮ বছরের অর্পা। কিন্তু ২ বছরের দুধের শিশু আদৃতা মৃত্যুর অর্থ জানে না। মানুষ মরে গেলে আর কখনো ফিরে আসে না, একথা বোঝার বয়স হয়নি তার। তাই গত দু’দিন ধরে মাকে খুঁজছে। তাকে বোঝানো হচ্ছে, মা অফিসে গেছে। আর কিছুক্ষণ পরই ফিরে আসবে। তারপর তোমাকে কোলে নিয়ে অনেক আদর করবে, দুধ খাওয়াবে। দুধের জন্য কান্না করতে করতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ছে অবোধ এ শিশুটি। অন্যদিকে বাবা-মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি কিছুটা উপলব্ধি করতে পারছে অর্পা। আর তা বুঝতে পেরেই নির্বাক হয়ে রয়েছে সে।
বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর আকবর শাহ থানাধীন কৈবল্যধাম বিশ্ব কলোনির বাসার সামনে অর্পা-আদৃতার বাবা-মায়ের নিথর ও রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, পূজার জন্য ছাদে ফুল তুলতে গিয়ে পা পিছলে নিচে পড়ে মারা গেছে অর্পা- আদৃতার মা সঞ্চিতা শীল চৌধুরী। এসময় নিচে দাঁড়িয়ে থাকা সঞ্চিতার স্বামী রাজীবও মাথায় ইটের আঘাত লেগে মারা যান। তবে এ ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা বলে মানতে নারাজ রাজীবের পরিবার। তাদের দাবি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দুর্বৃত্তরা রাজীব ও সঞ্চিতাকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সঞ্চিতার হাতের রগ কেটে দেয়া হয়েছে।
বাবা-মায়ের এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর দুই বোনকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাঁচ পুকুরিয়া গ্রামে দাদুর বাড়িতে। তাদের বাবা-মাকে শ্মশানে দাহ করার কাজ শেষ হতে হতে শুক্রবার ভোর হয়ে যায়। তবে দাহ করার সময় অর্পা ও আদৃতাকে সেখানে নেয়া হয়নি। তারা বাড়িতেই ছিল। অর্পার কাকা অভিজিত্ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, অর্পা আর আদৃতা আমাদেরই মেয়ে। ওরা বাবা-মাকে হারিয়েছে। এখন থেকে আমরাই ওদের বাবা-মা। তিনি বলেন, দাদা-বৌদির সব স্বপ্ন ছিল অর্পা আর আদৃতাকে ঘিরে। কষ্টের জমানো টাকা দিয়ে দুই মেয়ের জন্য শহরে তিনতলা একটি বাড়িও করা হয়। দাদা একজন সফল শিক্ষক ছিলেন। বৌদি ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই তারা পৃথিবী থেকে চলে গেলেন।
নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ
এদিকে অভিজিত্ চৌধুরী অভিযোগ করেন, গতকাল তার ও অন্য ভাইদের মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত পরিচয়ে কয়েকজন হুমকি দিয়েছে। তাকে বলা হয়েছে, এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে রাজীব ও সঞ্চিতার মত তাদেরও মরতে হবে এবং অর্পা ও আদৃতাকে তুলে নেয়া হবে। হুমকির বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে অভিজিত্ জানান।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, পুলিশ নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মামলা করা হবে বলে তিনি জানান ।
