শিরোপাধারী রিয়াল মাদ্রিদ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোল নিশ্চিত করেছে। রোমার মাঠ থেকে ২-০ গোলের জয় নিয়ে এসেছে তারা। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে পাওয়া ১-০ গোলের জয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেছে জুভেন্তাসও। এই জয়ে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন দলের তারকা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছুঁয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শততম জয়ের মাইলফলক।
যোগ করা সময়ের গোলে পরের রাউন্ডে পা রেখেছে ম্যানচেস্টারের দুই দল। ৯১ মিনিটে মারওয়ান ফেলাইনির লক্ষ্যভেদে ইয়ং বয়েজকে ১-০ গোলে হারিয়েছে কোচ হোসে মরিনহোর ইউনাইটেড। অপরদিকে অলিম্পিক লিঁওর মাঠ থেকে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে ফিরেছে সিটি। দিনের অন্য ম্যাচে বেনফিকাকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পরের রাউন্ডে উঠে গেছে বায়ার্ন মিউনিখ।
রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলের হারের পরও দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে রোমা। গ্রুপ ‘জি’র অন্য ম্যাচে ভিক্টোরিয়া প্লজেনের কাছে সিএসকেএ মস্কোর ২-১ গোলে হারের ফলেই সম্ভব হয়েছে ইতালির দলটির উত্তরণ।
গেল সপ্তাহে এসডি এইবার এর বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারা ম্যাচ থেকে এদিন রিয়ালের পারফর্মেন্স বেশ ভিন্নই ছিল। গোল করে এবং করিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন ফরোয়ার্ড গ্যারেথ বেল। এস্তাদিও অলিম্পিকোয় গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৪৭ মিনিটে ওয়েলস ফরোয়ার্ডের গোলে এগিয়ে যায় শিরোপাধারী দলটি। এরপর ৫৬ মিনিটে তার করা ক্রস জালে জড়িয়ে দলের ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন তরুণ খেলোয়াড় লুকাস ভাসকেজ।
প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল কোচ সান্তিয়াগো সোলারির কণ্ঠে ঝরে পড়েছে একরাশ স্বস্তি। তিনি বলেন, ‘দুঃসময় কাটিয়ে দ্রুত ফিরে আসাটা খুব জরুরি ছিল। আমরা খুব খুশি।’
এদিকে নিজেদের মাঠে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করেছে জুভেন্তাস। এই ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শততম জয় পেয়েছেন রোনালদো। দলের একমাত্র গোলেও ছিল পর্তুগীজ ফরোয়ার্ডের ছোঁয়া। ভ্যালেন্সিয়া বক্সের কোণায় পায়ের শৈলি দেখিয়ে দারুণ একটি ক্রস করেন রোনালদো। সেটিকে আলতো টোকায় জালে পাঠিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন মারিও মানজুকিচ। এর ফলে গ্রুপ ‘এইচ’ এর সেরা দল হিসেবে পরের পর্ব নিশ্চিত করলো জুভেন্তাস।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গ্রুপের অন্য ম্যাচে শেষ ষোল নিশ্চিত করেছে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইয়ং বয়েজের বিপক্ষে গোলশূন্য থেকেই শেষের দিকে এগোচ্ছিল ম্যাচটি। কিন্তু যোগ করা সময়ে লক্ষ্যভেদ করেন ফেলাইনি। ফলে জয়ের সাথে সাথে দ্বিতীয় রাউন্ডও নিশ্চিত হয়ে যায় মরিনহোর দলের।
ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি গ্রুপ ‘এফ’ এর ম্যাচে লিওঁর মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে। তবে তা সত্ত্বেও থেকে পরের রাউন্ডে উঠে গেছে কোচ পেপ গার্দিওলার দল। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫৫ মিনিটে স্বাগতিক লিওঁকে এগিয়ে দেন ম্যাক্সওয়েল কর্নেট। তবে এর মিনিট সাতেক পরেই সিটিকে সমতায় ফেরান ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে। ৮১ মিনিটে কর্নেটের দ্বিতীয় লক্ষ্যভেদে আবারও এগিয়ে ফরাসী দলটি। ৮৩ মিনিটে আগুয়েরো গোল করলে সমতায় ফেরে সিটি। ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট অর্জন করায় সিটির শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়ে গেছে এই দিনে।
বেনফিকাকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পরের পর্বে উঠে গেছে বায়ার্ন মিউনিখ। এইকে অ্যাথেন্সের মাঠে ২-০ গোলের জয়ে ২০০৩ সালের পর প্রথমবার নকআউট পর্বে উঠেছে আয়াক্স আমস্টারডম।
রোমা ০-২ রিয়াল মাদ্রিদ
জুভেন্তাস ১-০ ভ্যালেন্সিয়া
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১-০ ইয়ং বয়েজ
অলিম্পিক লিওঁ ২-২ ম্যানচেস্টার সিটি
বায়ার্ন মিউনিখ ৫-১ বেনফিকা
এইকে অ্যাথেন্স ২-০ আয়াক্স আমস্টারডম
