বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ গতকাল শনিবার চার চিকিত্সককে বরখাস্ত করেছে। এই চার জন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিক্যাল অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। এর পরপরই দন্ত বিভাগ খুলে দেন চিকিত্সকরা। শুরু হয় রোগীদের চিকিত্সা সেবা প্রদান।
গত সোমবার স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিপ) দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা, ভাংচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠন নিয়ে স্বাচিপের নেতা ডা. জাকারিয়া স্বপন ও এমএ আজিজ গ্রুপের মধ্যে এই হামলা ও পাল্টা-হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় দন্ত অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আলী আজগর মোড়লকে লাঞ্ছিত ও তার অফিস কক্ষে ভাংচুর করা হয়।
এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর স্বাচিপের ওপর একটি গ্রুপ প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ’র অফিস কক্ষে হামলা চালায়। হামলাকারী ও শিক্ষক লাঞ্ছিতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি প্রদানের দাবিতে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দন্ত বিভাগের প্রবেশ পথের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। চিকিত্সকরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। শাস্তি প্রদান না করা পর্যন্ত চিকিত্সকরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন বলে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন। ঘটনার পর ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত তাত্ক্ষণিক তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গঠিত তদন্ত কমিটি ২৪ ঘন্টার মাথায় গত বুধবার মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান খসরুর কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। পরের দিন ওই প্রতিবেদন নিয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেন। তদন্ত কমিটি হামলার সময় সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে জমা দেন। এই ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গতকাল বরখাস্ত করা হয়। এই আদেশ জারির পর সকাল সাড়ে ৯টায় চিকিত্সকরা কর্মসূচি স্থগিত করে কাজে যোগদান করেন। সাসপেন্ডকৃত চার মেডিক্যাল অফিসার হচ্ছেন, ডা. শাহ নেওয়াজ বারী, ডা. কামরুল হাসান, ডা. মাহরুফ ও ডা. শিব শংকর।
এদিকে ডা. আজিজ গ্রুপের সদস্যরা হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করে কর্তৃপক্ষের কাছে গত বৃহস্পতিবার একটি আবেদন করেন। এই প্রসঙ্গে ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ঘটনার পর অধ্যাপক ডা. মঈনুজ্জামানের নেতৃত্বে যে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটিকে আবেদনের বিষয়টি তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করারও সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছে। এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ভিসি জানান।
