২০ মিনিটের কম নয়, আবার ৪০ মিনিটের বেশি নয় যে সিনেমার দৈর্ঘ্য তাকে আমরা শর্ট ফিল্ম বলে থাকি। শর্ট ফিল্ম মানে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। আর এই সৃজনশীল ক্ষেত্রে প্রজন্ম তাদের মেধা এবং মননের দৈর্ঘ্যটা বাড়িয়ে দর্শকদের উপহার দেয় স্বল্প সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প। আধুনিক সময়ের সাথে গল্পের চিত্রায়ণেও পরিবর্তন আসছে। মেধাবী চিত্রায়ণের ফলে একটি সাধারণ গল্পও হয়ে উঠে অসাধারণ। এমনই অসাধারণত্বের দেখা পাওয়া যায় এ প্রজন্মের শর্ট ফিল্মগুলোর মধ্যে। তাই এ প্রজন্মের কয়েকজন শর্ট ফিল্ম নির্মাতাদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। গ্রন্থনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার ও সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
পলাশ রসুল
খুব ছেলেবেলাতেই যখনই কোনো চলচ্চিত্র দেখতেন, বিস্মিত হতেন পলাশ রসুল। কীভাবে একটা চিত্রকে এভাবে সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দী করা হয়? কত সুন্দর করেই না বলা হচ্ছে চলমান চিত্রের গল্প! আর প্রামাণ্যচিত্রটা বোঝার পর এ পথে আরেক ধাপে নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন পলাশ রসুল। ২০০৬ সালের দিকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক চলচ্চিত্র উত্সব হয়েছিল। সেবার উত্সবের লোগোফ্লিমটাই তৈরি করেছিলেন তিনি। এরপর তিনি নিজেই প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তৈরি করেন ১৬ মিনিটের এক চলচ্চিত্র ‘জল্লাদখানা বধ্যভূমি’। এ ধরনের কাহিনীর পেছনে ছুটতে গিয়ে তিনি জেনেছেন অনেক নতুন নতুন তথ্য-উপাত্ত। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়াতে একাত্তরে একই দিনে মেরে ফেলা হয়েছিল পাঁচ শ জনকে। এর আলোকেই তিনি নির্মাণ করেন ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’। এরপর ২০০৯ সালে নির্মাণ করেন ‘ফ্রোজেন টিয়ার্স’। এরপর ২০১১ সালে তিনি ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’-এর জন্য দুবার সম্মাননা পান। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত উত্সবে তিনি পান সেরা নবীন নির্মাতা হিসেবে স্বীকৃতি। এর কিছুদিন পরেই একই কাজের জন্য তিনি বাংলাদেশ ডকুমেন্টারি কাউন্সিল আয়োজিত উত্সবে প্রথম হন। পলাশ রসুল তার কাজের মাঝে ভিন্নতা এনেছেন বরাবরই। খ্যাতিমান নির্মাতা তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি নির্মাণ করেন ‘ঢাকা মেট্রো-চ’। আবার দেশের প্রত্যন্ত এলাকার বীরাঙ্গনাদের উপজীব্য করে তিনি নির্মাণ করেন ‘বাংলা নামে দেশ’। চাঁদপুরের ইলিশ জেলেদের নিয়ে আছে তার দারুণ এক প্রামাণ্যচিত্র ‘ইলিশ বৃত্তান্ত’। প্রজন্মের এই নির্মাতার ক্যামেরায় বারবার উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ। শাহবাগ কেন্দ্রিক গত বছর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে আন্দোলন হয়, তারই উপর ভিত্তি করে তিনি তথ্যনির্ভর এক প্রামাণ্যচিত্র বানিয়েছেন ‘হেফাজতনামা’ নামে। যা এরইমধ্যে একটি বেসরকারি চ্যানেলে প্রচারের পর প্রচুর সাড়া মিলেছে। পলাশ রসুল মনে করেন, এখন তরুণ নির্মাতারা নতুন নতুন চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করছে বলেই কাজের মান বাড়ছে। তবে কিছু স্থিরচিত্র আর তথ্যের আলোকে নির্মিত তথ্যচিত্রকে আমরা অনেকসময়ই প্রামাণ্যচিত্রের সাথে মিলিয়ে ফেলি। তবে মানজারে হাসীন মুরাদের হাত ধরে বাংলাদেশ ডকুমেন্টারি কাউন্সিল শুরু হওয়ার পর অনেক ভালো ভালো কাজ হয়েছে, সেগুলোর মূল্যায়নও হচ্ছে। আর নতুনদেরকে কাজের প্রতি আরও ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে পরামর্শ দিলেন তিনি। আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করলে শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে সেটাতে সফলতার দেখা মেলার। আর নিজেও অনেক স্বপ্ন দেখেন ভালো ভালো কাজ করার। নিজের চিন্তাটাকে সেলুলয়েডে বন্দী করে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার প্রয়াসেই প্রতিদিন এগিয়ে চলেন এই নবীন নির্মাতা।
পলাশ রসুল
ডাকনাম :পলাশ
মায়ের নাম :আমেনা খাতুন
বাবার নাম :আবুল কাসেম
জন্ম তারিখ ও স্থান :৭ অক্টোবর, পাবনা
প্রিয় মানুষ :মানজারে হাসীন মুরাদ
প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট
অবসর কাটে যেভাবে :ফিল্ম দেখে, গান শুনে
সাফল্যের সংজ্ঞা :অতৃপ্তি থেকেই নতুন নতুন কাজ হয়, কাজেই সফলতা বিষয়টা আপেক্ষিক।
০০০
ফরিদ আহমদ
চলচ্চিত্র নিয়ে তার ভাবনার শুরু হয় ২০০২ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স করার সময়। এরপর স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টে, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম এবং নিমকোতে (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ম্যাস কমিউনিকেশন) ফিল্ম বিষয়ে বেশ কিছু কোর্স করেন। এদিকে ২০০৪ সালে মানজারে হাসীন মুরাদ বাংলাদেশ প্রামাণ্যচিত্র পর্ষদ করলেন। সেখানে নিয়মিত ছবি দেখতেন, একই সাথে ছবি বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিতেন। এই ধারাবাহিকতায় ফরিদ আহমদ ২০১১ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণ করলেন তার প্রথম ছবি ‘একাত্তরের পদযাত্রী’। আর প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েই ৪র্থ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে শ্রেষ্ঠ নবীন নির্মাতার পুরস্কার পান। এরপর হরতাল-সংস্কৃতি নিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের প্রযোজনায় নির্মাণ করেন ‘হরতালনামা’ (২০১৩)। এ ছবি নেপালে আয়োজিত ‘সাউথ এশিয়ান প্রামাণ্যচিত্র উত্সব’-এ গত বছর প্রদর্শিত হয়েছে। সর্বশেষ নির্মাণ করেছেন রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় নিখোঁজদের নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ‘সন্ধান চাই’। আর সম্প্রতি আগরতলা মামলা এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সরকারি অনুদানে ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ নামে একটি চলচ্চিত্র বানাচ্ছেন। ফরিদ আহমদ মনে করেন, পেশা হিসেবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দেশে এখনও তৈরি হয়নি। তবে তিনি আত্মপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এ ক্ষেত্রটিকে বেছে নিয়েছেন। কারণ কল্পনার সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়ার মাধ্যম হচ্ছে চলচ্চিত্র। মানুষ ঠিক যেভাবে দৃশ্যের পর দৃশ্য জোড়া দিয়ে দিয়ে স্বপ্ন দেখে, কল্পনা করে; চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাঠামো অনেকটা সেরকমই। কথায় কথায় প্রজন্মের এই নির্মাতা বললেন, ‘প্রযুক্তির কল্যাণে কাঙ্ক্ষিত চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। কেবল সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নয়, উত্পাদন প্রক্রিয়ায় চলচ্চিত্রকে যুক্ত করতে পারলে পেশা হিসেবে চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি হবে।’ তার মতে, বাংলা চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছে তরুণরাই। কোনোরকম পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই আব্দুর জব্বার খান ১৯৫৩ সালে প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন বলেই ঢাকায় এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জহির রায়হানের মতো তরুণের হাত ধরেই তত্কালীন ঢাকায় পাকিস্তানের প্রথম রঙিন ছবি ‘সঙ্গম’ (১৯৬৪) এবং প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’ (১৯৬৫) নির্মিত হয়েছিল চলচ্চিত্র চর্চায় তরুণরা এগিয়ে এসেছিল বলেই। তরুণরাই পারে চলচ্চিত্রের নতুন নতুন সম্ভাবনার প্রকাশ ঘটাতে, নবীনতম এ শিল্পমাধ্যমকে আরও বেশি করে উপস্থাপন করা জরুরি। ফরিদ আহমদ স্বপ্ন দেখেন, আমাদের চলচ্চিত্রের নিজস্ব ভাষা থাকবে। ঠিক যেমন এক লাইন শুনলেই আমরা বলে দিতে পারি এটা লালন, হাসন কিংবা আব্দুল করিমের গান; তেমনি আমাদের চলচ্চিত্রেরও একটি স্বকীয়তা তৈরি হবে।
ফরিদ আহমদ
ডাক নাম :ফরিদ
জন্মতারিখ ও স্থান :২৬ জানুয়ারি, চাঁদপুর
মায়ের নাম :ফরিদা বেগম
বাবার নাম :ছফির মিয়া
প্রথম স্কুল :উদয়ন বিদ্যালয়
প্রিয় মানুষ :অনেক
প্রিয় উক্তি :General mind thinks people, average mind thinks event, greater mind thinks idea, greatest mind acts in silence.
অবসর কাটে যেভাবে :গান শুনে
সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম... ব্যর্থতা... আবার পরিশ্রম।
০০০০
জাহিদ গগণ
পরিবারের মেডিকেলে পড়ার চাপ উপেক্ষা করে ভর্তি হন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। ২ বছর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে ভালো রেজাল্ট করার পর বোধোদয় হয়—গড়ে দেয়া জীবন তিনি চান না, জীবনকে গড়ে নিতে চান। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক দুটো স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের ঝোঁকটা এরপর পুরোপুরি পেয়ে বসে। তারপর ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে পরিচালক সুজা-উদ-দৌলার সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এ প্রজন্মের মেধাবী স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালক জাহিদ গগণের পথচলার শুরু এভাবেই। জাহিদ তার কাজে জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরেন। নাটকীয়তাও যেখানে অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বৈশিষ্ট্যগুলোই তাকে স্বকীয়তা দিয়েছে বলে জানান তিনি। আপনি কেন এই মাধ্যমে এলেন জানতে চাইলে জাহিদ বলেন, ‘চলচ্চিত্র এমন এক পেশা যা কিনা আপনার না বলা কথাকেও বলতে পারে নিখুঁত শিল্পের ছোঁয়ায়। আমার ধ্যান, জ্ঞান, ক্ষুধা—সবই এখন চলচ্চিত্র হয়ে গেছে।’ তিনি আরও জানালেন, চলচ্চিত্র নির্মাণই বর্তমানে তার প্রথম ও প্রধান কাজ। রাস্তায়, পাহাড়ে, নদীতে সমাজ জীবনের বাস্তবতা নিরীক্ষার কাজটি দ্বিতীয়। এরই মাঝে চারটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন জাহিদ। এগুলো হচ্ছে ‘কবে যে মিলবে!’, ‘অ্যাসাইনমেন্ট বিভীষিকা’, ‘18 Hours in 180 Seconds’, ‘মূল অধিমূল্য’। এর মধ্যে ‘18 Hours in 180 Seconds’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি স্টার সিনেপ্লেক্স-ইউআইইউ ডকুমেন্টারি ফেস্টিভ্যালে প্রথম স্থান অধিকার করে। ‘মূল অধিমূল্য’ তারেক মাসুদ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া প্রায় চার-পাঁচটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বাজেটের অভাবে আটকে আছে তার। জাহিদ গগণের মতে, আমাদের দেশে পেশা হিসেবে শর্ট ফিল্ম খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। চলচ্চিত্রের একটা জায়গা আছে। নাটকের একটা ভালো বাজার আছে। কিন্তু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো শুধু ফেসবুক, ইউটিউবে কিছু বন্ধুকেই দেখানো যায়। খুব বড়জোর কিছু ফেস্টিভ্যালে নিয়ে যাওয়া যায়। এগুলো যদি দর্শককে দেখাতেই না পারা যায় তাহলে এর সার্থকতা খুব বেশি থাকে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রশ্ন ছিল, নতুন প্রজন্ম কেন এই পেশায় আসবে উত্তরে জাহিদ বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম আসবে তার শেকড়ের টান থেকে। যারা চলচ্চিত্র বানাবে তাদের জন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ কাজের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। তাছাড়া নিজস্ব বক্তব্যকে ভিজ্যুয়ালি দেখানোর জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।’ জাহিদ গগণের শৈশব-কৈশোর কেটেছে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাবার চাকরির সুবাদে ঘুরে বেড়িয়ে। পরিবারে মা-বাবা ছাড়াও আছে দুই বোন ও এক ভাই। সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন অস্কার জয় করার সাথে সাথে বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র দেখেই যেন মানুষ বলতে পারে এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র। হলিউডের আদলে বানানো, বলিউডের আদলে বানানো এমন কথা যাতে শুনতে না হয় এমন একটি চলচ্চিত্র ভাষার বিকাশ করতে হবে।’
জাহিদ গগণ
ডাক নাম :গগণ
জন্ম তারিখ ও স্থান :২০ মে, ১৯৯২
মায়ের নাম :নাসিমা আক্তার
বাবার নাম :মো. আবদুল মজিদ
প্রথম স্কুল :মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
প্রিয় মানুষ :সানজিদা হক
প্রিয় উক্তি :Think globally, but act locally.
প্রিয় পোশাক :পোলো শার্ট ও হাফ প্যান্ট
অবসর কাটে যেভাবে :চলচ্চিত্র পড়ে
সাফল্যের সংজ্ঞা :মাটির দিকে তাকিয়ে লক্ষ্যবিন্দুর দিকে অবিচল হেঁটে চলার নামই সাফল্য।
