টেকনলোজি একটু একটু করে এগিয়ে চলেছে, ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে আমাদের জীবনের অনেকটা সময়ই। এখন প্রায় সবার হাতেই দেখা যায় স্মার্টফোন। আর স্মার্টফোনগুলোতে স্মার্ট অ্যাপস থাকবে না, সেটা হতেই পারে না। হাজারো স্মার্ট অ্যাপসের ভিড়ে তেমনি একটা জনপ্রিয় অ্যাপস হলো হোয়াটসঅ্যাপ। দিনকে দিন জনপ্রিয়তার মাত্রা বেড়ে চলা এই অ্যাপটির পেছনে রয়েছেন জান ও তার বন্ধু ব্র্যায়ান। তারা জানালেন অ্যাপস-নির্ভর টেকবিশ্বের কথা। লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক আর টুইটারের মতো ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ নিয়ে তরুণদের আগ্রহের পালে হাওয়া কিছুটা কমে এলেও হোয়াটসঅ্যাপের জনপ্রিয়তা বেড়েছে হু-হু করে। এক বছরেরও কম সময়ে দ্বিগুণ হয়েছে এর সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা।
২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বিশ্বব্যাপী অ্যাপটির ব্যবহারকারীরর সংখ্যা ছিল ২০ কোটি। আর বর্তমানে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৫ কোটি। অর্থাত্ এক বছরেরও কম সময়ে বিশ্বব্যাপী অ্যাপটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। গত বছর প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার কোটি মেসেজ আদান-প্রদান হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে টেক্সট মেসেজ পাঠানোর মতো খরচ লাগে না বলেই হোয়াটসঅ্যাপের এই জনপ্রিয়তা। মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বাড়তি খরচ ছাড়াই ভয়েস, ভিডিও ও ছবি শেয়ার করতে পারেন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা। প্রথম বছর কোনো টাকা না লাগলেও দ্বিতীয় বছর থেকে বার্ষিক মাত্র ১ ডলারে এই সেবা দেয় হোয়াটসঅ্যাপ। ইয়াহুর দুই সাবেক কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের ব্রায়ান অ্যাকটন ও ইউক্রেনের জান কুম ২০০৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এর কর্মীসংখ্যা ৫০ জনের মতো। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপের সিইও জান কুম এক বিবৃতিতে বলেন বলেন, ‘মার্ক ও ফেসবুকের অংশীদার হতে পেরে আমরা দারুণ আনন্দিত।’ আর জুকারবার্গ জানান, মাত্র ১১ দিনের আলোচনায় তারা হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন।
জান সম্পর্কে কিছু কথা
হোয়াটসঅ্যাপ ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজিং সার্ভিস। স্মার্টফোনে ব্যবহারের জন্য প্রথম এটি ডিজাইন করা হয়। বর্তমানে মোবাইলের টেক্সট মেসেজিং প্রযুক্তির পাশাপাশি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই অ্যাপসগুলো। ক্লায়েন্ট সফটওয়্যারগুলো অ্যান্ড্রয়েড, ব্ল্যাকবেরি এবং আইওএস-এ চলে। এছাড়াও সিমবিয়ান ও উইন্ডোজ ফোনের জন্যও ডিজাইন করা হয় অ্যাপটি। ২০০৯ সালে জান কুম ও ব্রায়ান একটনের হাত ধরে প্রথম আলোর মুখ দেখে হোয়াটসঅ্যাপ। জান বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সিইও হিসেবে কাজ করছেন। তারা দুজনেই আগে ইয়াহুতে ছিলেন। ২০১২ সালের মধ্যেই অ্যাপটির জনপ্রিয়তা দুই বিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। শুরুতে কিনে নিতে হলেও বর্তমানে অ্যাপটি পাওয়া যাচ্ছে বিনামূল্যেই।
অ্যাপসগুলো সম্পর্কে কিছু কথা
চ্যাট আর সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের মিশেল এত সহজভাবে সাজানো রয়েছে অ্যাপগুলোতে যে সেগুলো ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে বৈ কমছে না। আর যুগটাই এখন স্মার্টফোনের। সরাসরি বলতে গেলে অ্যান্ড্রয়েডের, স্মার্টফোনের ‘সেরা অপারেটিং সিস্টেমের’। মূলত এই অ্যাপগুলো অ্যান্ড্রয়েড-নির্ভর। তবে আইওএসএ, ব্ল্যাকবেরি, উইন্ডোজ সব অপারেটিং সিস্টেমেই চলে অধিকাংশ অ্যাপ। এই অ্যাপ থাকলে এসএমএসের কোনো প্রয়োজন নেই। বন্ধুদের হাসি-ঠাট্টা, অফিসের কাজের কথা কিংবা সহকর্মীদের মধ্যে ‘ফ্লার্ট’ হোয়াটসঅ্যাপ, উইচ্যাট-নির্ভর। এমএমএস যুগও শেষ বলা চলে। এখন কাজ হলো ছবি তোলা, ভিডিও করা আর নিমেষের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে পাঠিয়ে দেওয়া প্রিয় বন্ধুটিকে। বলাই বাহুল্য, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ ধরনের অ্যাপ্লিকেশনই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের নতুন দিশা হবে। সেখানে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা অনেকটাই ম্লান হয়ে যাবে। বড় বড় চ্যাট অ্যাপ্লিকেশন সংস্থাগুলো এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে যেখানে তৃতীয় পক্ষ বা থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে গেমও খেলা যায়। সে ক্ষেত্রে ১০০ কোটি গ্রাহকে সমৃদ্ধ ফেসবুককে কড়া টক্কর দেবে এই অ্যাপগুলো! এমনটাই জানালেন, হোয়াটস অ্যাপের ডেভেলপার ও সিইও জন।
