অদ্ভুত সুন্দর কারুকাজ করা থাকে চীনামাটির উপরে। চীনামাটিকে শিল্পীর পট করে গড়ে ওঠা শিল্পকে আমরা সিরামিকস শিল্প বলে থাকি। মূলত আমাদের চলমান জীবনে ব্যবহূত বিভিন্ন পণ্যে একটু নান্দনিকতার ছোঁয়া আনতেই এ ধরনের সিরামিকসের প্রবর্তন। বর্তমানে এদেশের একটি অন্যতম ভালো পেশার ক্ষেত্র হলো সিরামিক শিল্প। এই শিল্পের সাথে জড়িত এই প্রজন্মের তেমনই কয়েকজন মেধাবীরা জানালেন এই পেশা নিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা। অনুলিখন করেছেন আহসান রনি
সৈয়দ আলী আবদুল্লাহ জামি
হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং
স্টার সিরামিকস লিমিটেড
বর্তমানে বছরে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিরামিক শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। পেশা হিসেবে এখানে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের সিরামিকশিল্প প্রতিনিয়ত ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন হয়ে উঠছে বিভিন্ন দেশে। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও কাঁচামাল সস্তা হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এই শিল্পে বিনিয়োগ করতে উত্সাহ বোধ করছেন। তাই একদিকে পণ্যের ব্যাপক চাহিদাবৃদ্ধি, অন্যদিকে বিনিয়োগ বাড়ায় এই শিল্পে বেড়েছে দক্ষ সিরামিক প্রকৌশলীদের চাহিদা। তাই যারা সিরামিকের ওপর পড়াশোনা করে বের হচ্ছেন, তাদের জন্য পেশার নিশ্চয়তা রয়েছে এই শিল্পে। তাই তিনি প্রত্যাশা করেন তরুণ প্রজন্ম তাদের মেধার প্রকাশ ঘটাতে এ পেশায় আসবে। জামি আশা করেন, সরকার দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সিরামিকস বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে এই পেশা সম্পর্কিত শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করবে। এতে তরুণ প্রজন্ম এই পেশার বর্তমান ও ভবিষ্যত্ সম্পর্কে জানতে পারবে এবং নিজেরা এই পেশার উন্নতিতে কাজ করতে পারবে। সিরামিকসের নানা পণ্য তৈরি ও বাজারজাতকরণে সিরামিকস তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা করেন তিনি।
জুয়েল সরকার
ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, মার্কেটিং, আরএকে সিরামিকস
সিরামিকস পেশার বর্তমান অবস্থা খুবই আশাব্যাঞ্জক ও সম্ভাবনাময়। আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকা যেভাবে বাড়ছে তাতে এই পেশার চাহিদাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিক্রয় ব্যবস্থাপনা, ডিস্ট্রিবিউশন, ব্র্যান্ড প্রোমোশন, নতুন পণ্য উন্নয়ন, বাজার গবেষণা ইত্যাদি সম্পর্কিত শিক্ষা এই পেশায় ভালো করার জন্য খুবই জরুরি। জুয়েল প্রত্যাশা করেন তরুণ প্রজন্ম এই পেশায় প্রবেশের আগে বিষয়গুলো ভালোভাবে শিখে আসবে এবং কাজের সময় বিষয়গুলো ভালোভাবে রপ্ত করে নেবে। পেশা হিসেবে চ্যালেঞ্জিং হলেও নিজের কর্মদক্ষতা, পরিশ্রম ও সততা দ্বারা এই পেশায় অনেক ভালো করা যায়। তিনি আশা করেন তরুণ প্রজন্মের যারা এই পেশায় যুক্ত হতে চান তারা তাদের কাজ মনোযোগ ও আন্তরিকতার সাথে করবে। তরুণরা এই পেশায় আরও বেশি আগ্রহী হবে। তারা তাদের নতুন নতুন পরিকল্পনা দিয়ে এই পেশার উন্নতি সাধন করবে। এই পেশার সাথে জড়িত দক্ষ কর্মকর্তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে তাদেরকে আরও ভালোভাবে ও দক্ষতার সাথে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি প্রত্যাশা করেন, যোগ্যতা বাড়ানোর জন্য ট্রেনিংয়ের আয়োজনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো নানা সেমিনার ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।
কাজী মো. আব্দুল্লাহ ফারুক
সিনিয়র ম্যানেজার, সেলস অ্যান্ড কর্পোরেট
মীর সিরামিকস লি.
বাংলাদেশে সিরামিক্স শিল্প একটি বড় পথ পরিক্রমার ভেতর দিয়ে আজকের একটি ভালো অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। সিরামিকসে প্রফেশনের বড় দিক হচ্ছে চ্যালেঞ্জ এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করা। আবার এই চ্যালেঞ্জের অন্য একটি দিক হচ্ছে কনফিডেন্স। আমার চাওয়া, তরুণ প্রজন্মের যারা পেশায় যারা এই পেশায় যুক্ত হতে চায় তাদের যথেষ্ট কনফিডেন্স থাকবে। তাহলেই তারা এই পেশায় ভালো করতে পারবে। যত বেশি তরুণ এই পেশার সাথে যুক্ত হবে এই পেশার তত সমৃদ্ধ হবে। এই পেশার প্রসারের জন্য সরকারেরও কিছু উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সরকার প্রথমত এই শিল্পকে অত্যাবশ্যকীয় হিসাবে ঘোষণা দিতে পারে। তাহলে যারা উদ্যোক্তা তারা এই শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করবে এবং সেই সাথে মার্কেট শেয়ারও বাড়বে। সরকারের উচিত এই শিল্পবান্ধব শুল্কনীতি গ্রহণ করে রফতানি বৃদ্ধি উত্সাহিত করা।জ্বালানি ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদান করে, রফতানি ক্ষেত্রে প্রণোদনা প্রদান করে এই শিল্পের আরও বেশি উন্নতি সাধন করতে পারে। নতুন নতুন উদ্যোক্তারা এই শিল্পকে আরও অনেক বেশি সমৃদ্ধশালী করবে।
