প্রজন্ম সংবাদ

সফল পথের একজন

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৪, ২০:১৩
সাফল্য অর্জনে প্রয়োজন সঠিক পথ ধরে এগোনো। এই পথ ধরে এদেশের অনেক কৃতী সন্তান পৃথিবীজুড়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন স্ব-স্ব কাজে। সেই ধারায় সম্প্রতি নতুন প্রজন্ম বিমান প্রকৌশলীর মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে গিয়ে দারুণ সুনাম অর্জন করছে। এমনই একজন তরুণ শিক্ষার্থী রাহাত হোসেন খান। এইচএসসি পাস করার পর উচ্চশিক্ষা নিয়ে বেশ দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন। বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার কারণ ছিল ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। কিন্তু এ দুটি বিষয়ে চান্স পাওয়াটা প্রকৃতপক্ষেই দুরূহ বিষয়। আর এসব বিষয় অনেকটা গতানুগতিক মনে হয়েছে তার কাছে। তিনি শিক্ষা অর্জনে বৈচিত্র্য এবং একটু নতুনত্ব নিয়ে চিন্তা করতেন। যে কারণে খোঁজ করতে থাকেন সময়োপযোগী বিষয়ের। এরই মধ্যে চোখে পড়ে ক্যাটেকের অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার বিষয়টি। এ সম্পর্কে আরও বিস্তরিত জানতে ফোন করেন এই নম্বরে ৮৯৯১৩৭১। এরপর এদের প্রধান ক্যাম্পাস উত্তরার এগার নম্বর সেক্টরের দুই নম্বর রোডের চৌদ্দ নম্বর প্লটে গিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন এবং ভর্তি হন। প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর হয়রানিতে পড়ার বিষয়টি তিনি জানতেন। যে কারণে একটু সংশয়ে ছিলেন। কিন্তু সে আশঙ্কা কেটে গেল দুই বছরের মাথায়। কলেজের কমিটমেন্ট অনুযায়ী তিনি ভিসা নিয়ে চলে আসেন আয়ারল্যান্ডে। এখানে শ্যানন অ্যারোস্পেসে যোগ দেন। প্রতি মাসে তিনি অন্যান্য সুযোগের সাথে সাথে যথেষ্ট আয় করছেন। পক্ষান্তরে এয়ারক্রাফট মেনটেনেন্স লাইসেন্স পাওয়ার পর তার শুরুতেই বেতন হবে দু’হাজার ইউরো। এখন কেবল তার সফলতার পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময়। এ প্রসঙ্গে রাহাত হোসেন খান বলেন, এ বিষয়ে পেশা গড়া এখন যেমন সহজ, আগে এতটা ছিল না। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশেই এর শিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যা এক সময় বিদেশে গিয়ে সম্পন্ন করে আসতে হতো। কিন্তু এদেশে শিক্ষার সুযোগ থাকায় ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থী এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছেন বিশ্বজুড়ে। আর এতে শুধু ছেলেরা নয়, সমধিক হারে মেয়েরাও পেশাগত সাফল্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। বিমান প্রকৌশল একটি হাইটেক প্রফেশন। যুক্তরাষ্ট্রের এডেক্সেল বোর্ডের আওতায় শিক্ষার্থী এই ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিশ্বজুড়ে চাকরির সুযোগ নিতে পারছে। আর সারা বিশ্বে সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে এই পেশায় চাকরির অবারিত সুযোগ। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বল্প সময়েও কোর্সটি করতে চাইলে শ্যানন অ্যারোস্পেসের অধীনে ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে ইএএসএ কমন মডিউলে থিউরিটিক্যাল সম্পন্ন করে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষার জন্য চলে আসা যায় আয়ারল্যান্ডের শ্যানন এয়ারপোর্টে। এক্ষেত্রে প্র্যাকটিক্যাল টাইমে শ্যানন এরোস্পেসে প্রতি স্টুডেন্ট সার্টিফিকেট পাওয়ার আগ পর্যন্ত মাসে ৫ শ ডলার করে সম্মানী পেয়ে থাকেন। আর অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে রয়েছে ১৮ মাস লেভেল-৩ বা এ লেভেল, ১৮ মাস লেভেল-৫ এবং আনন্দের বিষয় হচ্ছে এখন বাংলাদেশ থেকেই লেভেল-৬ অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (অনার্স) করা যাচ্ছে।