যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি

ক্রিমিয়ায় আক্রমণ হলে রাশিয়া আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হবে

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৫
রাশিয়াকে হুঁশিয়ার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ক্রিমিয়ায় কোনো ধরনের আক্রমণ করা হলে রাশিয়া আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হবে। একই সঙ্গে ওয়াশিয়ংটন জানিয়েছেন, সমস্যা সমাধানে সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপের মিত্ররা ইউক্রেনে রুশ পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খবর বিবিসি, সিএনএন ও এএফপি’র। হোয়াইট হাউজ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বারাক ওবামা শনিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ইতালীয় নেতা মাতিও রেঞ্জির সঙ্গে ইউক্রেন সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনাকালে নেতৃবৃন্দ ইউক্রেন সংকট নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং দেশটিতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তারা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখন্ডতা রক্ষায় সমর্থন দেয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা রুশ সৈন্য ফিরিয়ে নিতে এবং ক্রিমিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে রাশিয়া সরকারের প্রতি আহবান জানান। ক্রিমিয়ার পার্লামেন্টের ভোটাভুটি এবং ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করেন নেতারা। হোয়াইট হাউজ জানায়, রাশিয়া যদি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে থাকে তাহলে দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এদিকে ওবামা সাবেক সোভিয়েতভুক্ত এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুনিয়ার নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও এক কনফারেন্স কলে চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এ বিষয়ে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, আলাপকালে কেরি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরির লক্ষে ওয়াশিংটনের কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপ জোরদার কিংবা ইউক্রেনের ক্রিমিয়া কিংবা যে কোন জায়গায় উস্কানিমূলক পদক্ষেপ কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করবে। ব্রিটেন বলেছে, রাশিয়া যদি ক্রিমিয়ায় আক্রমণ করে তাহলে সেটা মারাত্মক ভুল হবে। ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, ক্রিমিয়ার ঘাঁটি থেকে রুশ সেনা ফিরিয়ে নেওয়া এবং মে মাসে ইউক্রেনে নির্বাচনে সমর্থন দিয়ে রাশিয়ার পক্ষে এখনো এ সংকট সমাধানের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনপন্থিদের ওপর রুশপন্থিদের হামলা রুশ সৈন্যদের কার্যক্রম বাড়ছে ইউক্রেনের স্বায়ত্ত্বশাসিত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনপন্থীদের ওপর হামলা করেছে রুশপন্থীরা। ক্রিমিয়া নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সংকট সৃষ্টি হওয়ার পর এই প্রথম এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলো। গতকাল রবিবার সিবাস্তোপোলে এক সমাবেশে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ক্রিমিয়ায় রুশ সৈন্যরা কার্যক্রম বাড়াচ্ছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। ক্রিমিয়া বর্তমানে রুশ সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে। ইউক্রেনের কবি এবং জাতীয় বীর বলে পরিচিত তারাস শিভেনকোর ২শত তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল একটি সমাবেশের আয়োজন করে ইউক্রেনপন্থী নাগরিকরা। এসময় হঠাত্ করে রুশপন্থীরা সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা করে। তাদেরকে চাবুক দিয়ে মারধর করা হয়। এমনকি আশেপাশের গাড়িতে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। গাড়ির জানালা ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। এর ফলে অনেকেই ভয়ে সমাবেশ থেকে পালিয়ে যায়। সমাবেশে দুই শতাধিক নাগরিক অংশ নেয়। হামলাকারীদের মধ্যে রাশিয়ার কসাক সমপ্রদায়ের লোকজনকেও দেখা গেছে। এদিকে রুশ সৈন্যরা গতকাল ক্রিমিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ক্রিমিয়ার সীমান্ত বাহিনীর মুখপাত্র ওলেহ স্লোবোদিয়ান জানিয়েছেন, সকাল ৬টার দিকে রুশ সৈন্যরা নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ৩০ জন সৈন্য ভেতরে ঢুকে পড়ে। তিনি জানান, ক্রিমিয়ার সীমান্ত এলাকার ১১টি পোস্ট নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রুশ সৈন্যরা। শনিবার ক্রিমিয়ায় নিরস্ত্র আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের একটি দল ও ইউক্রেনের একটি পর্যবেক্ষণ বিমানকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এতে করে দ্য অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি এন্ড কোঅপারেশন ইন ইউরোপ (ওএসসিই) এর পরিদর্শক দল ক্রিমিয়ায় প্রবেশ না করে ফিরে গেছে। ক্রিমিয়ার আর্মিনাস্কের ওই ঘটনায় কেউ আঘাত পায়নি বলে জানিয়েছে ওএসসিই। এটি নিয়ে তৃতীয়বারের মতো রুশপন্থী সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রিমিয়ায় প্রবেশ করার মুখে ফিরে গেলো ওএসসিই’র পরিদর্শকরা।