চামড়া শিল্প নগরী নির্মাণ ১১ বছরেও শেষ হয়নি

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৫
দীর্ঘ ১১ বছরেও শেষ হয়নি সাভারে চামড়া শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠার কাজ। দূষণ বন্ধের লক্ষ্যে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে চামড়া প্রক্রিয়াজাত কারখানাগুলো (ট্যানারি) সরিয়ে নিতে সাভারে একটি পরিকল্পিত শিল্পপার্ক নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ২০০৩ সালে। এ লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়। কিন্তু সময় বাড়ানোর সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে এ প্রকল্পের ব্যয় বহুগুণ বাড়লেও এখন পর্যন্ত অর্ধেক কাজও সম্পন্ন করা যায়নি। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে মোট ১৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনবছর মেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পরে প্রকল্পের ব্যয় দুইদফা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী ২০১৬ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবার কথা। কিন্তু যেভাবে কাজ এগুচ্ছে তাতে সুনির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হওয়া তো দূরের কথা, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়েই নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানায়, দীর্ঘ ১১ বছর পার হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ২০ ভাগ। প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন, ‘সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ বা সিইটিপি এবং ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ কাজ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, ২০০৩ সালে নেয়া ’চামড়া শিল্প নগরী’ প্রকল্পটি শেষ হবার কথা ২০০৫ সালে। কিন্তু প্রকল্পটির ব্যয় না বাড়িয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রথম দফা সময় বাড়ায় এক বছর। এরপর পরিকল্পনা কমিশন এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ায় আরো ছয় মাস। কিন্তু ২০০৭ সালে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৫৪৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। তাতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১০ সাল নির্ধারণ করা হয়। এতেও চামড়া শিল্পনগরীর কাজ না এগুলে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পের কাজ আরো দুইবছর বাড়িয়ে ২০১২ সাল নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার সংশোধনের সময় প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। সময়সীমাও বাড়িয়ে করা হয় ২০১৬ সাল। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মোট প্রকল্প ব্যয়ের অধিকাংশ যাচ্ছে সিইটিপি, ডাম্পিং ইয়ার্ডসহ কয়েকটি ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এছাড়া ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরে শিল্প মালিকদের অনুদান বাবদ দেয়া হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পের মোট ১ হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ ৮০ শতাংশ বা ৮২৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। বাকি ২০ শতাংশ সরকার ঋণ হিসেবে ট্যানারি মালিকদের দেবে যা পরবর্তীতে আদায় করা হবে। ইতিমধ্যে ট্যানারী মালিকরা ৪৫ কোটি টাকার বেশি সরকারকে পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে। পাইলিং ছাড়াই নির্মাণ হচ্ছে সিইটিপি! সূত্র জানায়, শিল্প নগরীর সিইটিপি নির্মাণ নিয়ে ইতিমধ্যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ড্রইং ও ডিজাইনের মধ্যে ১৫টি আইটেমে পাইলিং ফাউন্ডেশন তৈরি করার কথা থাকলেও এ কাজটি করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অন্তত ৭ বার পত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এসবের তোয়াক্কা করছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যে কোনো ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পাইলিংয়ের মাধ্যমে করার নিয়ম থাকলেও চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপি নির্মাণ করা হচ্ছে পাইলিং ছাড়াই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কংক্রিট পাইলিং ছাড়া সিইটিপি নির্মাণ করলে প্রকল্পটি ভূমিকম্প সহনীয় হবে না এবং নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই মূল স্ট্রাকচারে ফাটল দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা একটি বৃহত্ আকারের সিইটিপি নির্মাণের কাজ যেন অবশ্যই কংক্রিট পাইলিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তার পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চামড়া শিল্পনগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সিইটিপি নির্মাণ কাজ শুরু না হলেও কার্যাদেশ পাওয়ার মাত্র ৩ মাসের মাথায় ‘প্যাটেন্ট অথরাইজেশন ফি’ বাবদ ৭ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মজার বিষয় হচ্ছে-ওই কোম্পানির চেয়ারম্যান ফি উত্তোলনের পরপরই এক কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার বহনের দায়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হন।