বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবায় গরীবরা পাবে হেলথ কার্ড :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৮
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সরকারি হাসপাতালে গরীব রোগীরা যাতে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা পায় সেজন্য তাদের হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে। শিগগিরই স্বাস্থ্য কাউন্সিলে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর দ্রুত তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। গতকাল রবিবার বিকালে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে যক্ষ্মা বিষয়ক সচেতনতামূলক সম্মেলন ‘দ্বিতীয় কনফারেন্স অব দ্যা ইউনিয়ন সাউথ-ইস্ট এশিয়া রিজিয়ন’ (এসইএআর-২০১৪) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। মোহাম্মদ নাসিম সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা করে আমাদের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিন। এতে আমরা শুধরানোর সুযোগ পাবো। তিনি বলেন, সেবার ব্যাপারে কোন দলবাজি থাকতে পারে না। এ ব্যাপারে সকলের এগিয়ে আসা উচিত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা জঙ্গিবাদ মুক্ত করার লড়াইয়ে সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হবে। গার্মেন্টস, মিডিয়া স্থাপনের পরিবর্তে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারিভাবে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা অনেক কঠিন। বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা উচিত। আর এসব হাসপাতালে দিনে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা গরীবের জন্য স্বল্পমূল্যে চিকিত্সা ও রক্ত পরীক্ষার সুযোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কিছু রক্ত পরীক্ষায় খরচ হয় মাত্র দুই টাকা, অথচ ফি নেয়া হয় ২শ’ টাকা। স্বাস্থ্য সেক্টরে আওয়ামী লীগের অবদান তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। এখন একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষেরাও ঘরের কাছেই কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারছেন। গ্রামে থেকে ডাক্তারদের সেবা দেয়ার জন্য আবারো আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামের গরীব মানুষের কাছে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার হলো বিধাতার মতো। তাই ডাক্তাররা গ্রামে না থাকলে তারা যাবে কোথায়? এক্ষেত্রে গ্রামের ডাক্তারদের চলাচলের জন্য যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিশ্ব ব্যাংকের সাথে আলোচনা চলছে। জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নুরুল হক প্রমুখ।