লাল সবুজের জার্সি

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৪, ১৮:৪৪
স্বাধীনতার এই মাসে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট। এই আসরকে কেন্দ্র করে সর্বত্রই শুরু হয়েছে উত্সবের আমেজ। তাই তো তরুণ-তরুণীরা ছুটছেন প্রিয় ক্রিকেট দলের জার্সি সংগ্রহে। কেননা জাতীয় দলের জার্সি পরে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। লাল-সবুজের জার্সি নিয়ে আমাদের এবারের মূল ফিচার। লিখেছেন খালেদ আহমেদ তারুণ্য মানে চির সবুজ। বিজয় ছিনিয়ে আনতে সদা প্রস্তুত। শুধু তরুণরাই নয়, পুরো বাঙালি জাতির আবেগটা একটু বেশি। আর যেকোনো উত্সব এলেই সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে আমাদের পোশাকে। তাই প্রিয় ক্রিকেট দলের জার্সি গায়ে খেলা দেখাটাও এই প্রজন্মের কাছে নতুন ক্রেজ। যেকোনো টুর্নামেন্ট চলাকালে নিজ দেশের জার্সি গায়ে মাতোয়ারা হওয়াটাই তারুণ্যের হালের ফ্যাশন। পোশাকের সংস্কৃতিতে এই পরিবর্তনের ছোঁয়া আমাদের ফ্যাশন ভাবনাকে করেছে প্রাণবন্ত। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ফাহিম সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাবার কাছে বায়না ধরেছে তাকে জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি কিনে দিতে হবে এবং তাকে উদ্বোধনী খেলাও দেখতে নিয়ে যেতে হবে। কেননা তার ক্লাসের অন্য বন্ধুরাও খেলা দেখতে যাবে সে দিন। আর জার্সি কিনে না দিলে সে বন্ধুদের সামনে মুখ দেখাতে পারবে না। বাবা ছেলেকে বারবার বোঝাচ্ছে যে তোমাকে এই পোশাকে মানাবে না। কিন্তু কে শোনে কার কথা, তার জার্সি লাগবেই। এরকম চিত্র এখন রাজধানীর কমবেশি অনেক পরিবারেই দেখা যাচ্ছে। প্রিয় খেলোয়াড় বা পছন্দের দলের জার্সি পরে অনেকেই আজকাল জানান দেয় তার ভালো লাগা। ক্রিকেট চলবে মাঠে, আর স্টেডিয়াম ছেয়ে যাবে লাল-সবুজের জার্সিতে। এর বাইরেও রাস্তাঘাটে, অলিগলিতে, ক্যাফে বা সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সাকিব, তামিম ভক্তরা রঙিন হবে জার্সিতে। আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরুর সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন দেশজুড়ে উত্সবের আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে। আর এই উত্সবের আনন্দে নিজেকে সামিল করতে পিছিয়ে নেই তরুণরাও। নিজ দেশের জাতীয় দলকে এগিয়ে নিতে উত্সাহ দিতে তারা মাঠে যাবে খেলা দেখতে, গায়ে থাকবে লাল-সবুজের প্রিয় জার্সিও। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর ভাবনায় স্বদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরার প্রবণতা শুরু থেকেই। নানা উত্সবে ফ্যাশন হাউসগুলোর অংশগ্রহণ বরাবরের মতোই প্রশংসনীয়। তাদের কাজে স্বদেশের ভাবনা অনুপ্রাণিত করছে দেশ এবং ভিন্ন দেশের মানুষকে। ঠিক তেমনি ফ্যাশন ভাবনায় জার্সির আগমনের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে এই ফ্যাশন হাউসগুলো। অঞ্জন’সসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস তৈরি করেছে আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে স্যুভেনির হিসেবে বিভিন্ন ধরনের জার্সি ও টি-শার্ট। সেইসাথে এশিয়ান গেমস হকি বাছাইপর্বের টুর্নামেন্ট প্রায় একই সময়ে শুরু হবে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে। আর বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের জার্সিও তৈরি করেছে এই ফ্যাশন হাউসটি। কেননা অঞ্জন’স বাংলাদেশ হকি জাতীয় দলের ওয়্যারড্রোব পার্টনার। পাশাপাশি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সবগুলো দেশের জার্সি মিলবে রাজধানীর বিভিন্ন শোরুমে। শুধু শোরুমগুলোতেই নয়, বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন সময়ে স্টেডিয়ামের ভেন্যু থেকেও পাওয়া যাবে বিভিন্ন দেশের আসল জার্সি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) অনুমোদিত ‘লোগো আনলিমিটেড’র সৌজন্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে জার্সিসহ বিভিন্ন আইসিসি লোগোসহ পণ্য বিক্রি হবে। বিক্রিত পণ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে—ইভেন্ট ক্যাপ, ইভেন্ট প্রিমিয়াম টি-শার্ট, ইভেন্ট বেসিক টি-শার্ট, ইভেন্ট পোলো শার্ট, ইভেন্ট প্রিমিয়াম পোলো শার্ট, ইভেন্ট সিরামিক মগ, ইভেন্ট কি চেইন (চাবির রিং), ইভেন্ট ব্যাগ প্যাক, ইভেন্ট জিম স্যাক, ইভেন্ট পিন, ইভেন্ট মিনিচার ব্যাট, টিম টি-শার্ট, টিম পোলো শার্ট, টিম জার্সি, টিম ক্যাপ, টিম ব্রেসলেট, জাতীয় টি-শার্ট, জাতীয় জিম স্যাক, ফেস পেইন্ট, স্টিকার এবং বাঁশি। যেসব স্থানে পাওয়া যাবে—টেক্সমার্ট, ইন্টার স্পোর্টস, ব্যাকেল কাপ, প্যান প্যাসাফিক সোনারগাও, রূপসী বাংলা, হোটেল রেডিসন ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল পেনিনসুলা, হোটেল আগ্রাবাদ ইন্টারন্যাশনাল, রোজ ভিউ হোটেল, নিরভানা ইন্টারন্যাশনাল, স্টার প্যাসিফিক। ক্রিকেট নিয়ে উত্সবের এই আমেজে নানা বয়সীদের জার্সি কেনার প্রবণতা অনেকটা চার-ছক্কার পর্বকেও ছাড়িয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ফ্যাশনে লাল-সবুজের জার্সির ভূমিকা পোশাক শিল্পে নতুন চিন্তার আগমন ঘটিয়ে দিন দিন সৌন্দর্যের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।