রঙিন চুল

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৪, ১৮:৪৫
চুলের প্রতি নারীর আকর্ষণ শাশ্বত কাল ধরে। নারীর এ চুলের প্রেমে যেমন আনমনা হয়েছেন বহু কবি তেমনি এ চুল নিয়েও নারীর আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই। আজকাল অনেক মেয়েই চুল বর্ণিল রঙে সাজাতে পছন্দ করে। ছোট-বড়, স্ট্রেট-কার্লি সব ধরনের চুলের জন্যই রয়েছে রঙিন সমাধান। নিজেকে স্মার্ট ও আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং বন্ধু মহলে অথবা চাকরি ক্ষেত্রে নিজেকে ব্যতিক্রমভাবে তুলে ধরতে চাইলে রাঙিয়ে নিতে পারেন আপনার সুন্দর চুলগুলো। আর প্রাকৃতিক জিনিস একবার পরিবর্তন করলেই করতে হয় তার হাজারটা পরিচর্যা আর রঙিন চুলের যত্ন নিয়েই লিখেছেন ইশরাত বিনতে আফতাব  কালার করানোর আগে থেকেই যতটা সম্ভব চুল স্বাস্থ্যকর এবং ময়েশ্চারাইজড রাখার চেষ্টা করুন। কমপক্ষে ৩-৪ সপ্তাহ আগে থেকে চুলে কোনো কেমিকেল ট্রিটমেন্ট করাবেন না।  যদি আপনি প্রথমবার চুলে রং করেন, তাহলে পেছনের দিকে ঘাড়ের অংশের কিছু চুল নিয়ে তাতে রং ব্যবহার করে দেখুন। চুলের গোড়ার দিকের অংশে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি রং নষ্ট হয়ে যায়, তাই রঙের মধ্যে ডেভেলপার না মিশিয়ে বেশ খানিকটা গাঢ় রং লাগিয়ে নিন। রঙের মধ্যে খানিকটা গোল্ড এবং ইয়ালো এসেন্ট মিশিয়ে নিন। এতে চুলে হাইলাইটিং ইফেক্ট ভালো আসে।  কালার করা চুলে সপ্তাহে অন্তত একবার হট অয়েল ট্রিটমেন্ট করুন। চুল ডিপ কন্ডিশন করতে এর জুড়ি নেই। পরিমাণমতো অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল এবং নারিকেল তেল একসাথে মিশিয়ে হালকা গরম করে চুলের গোঁড়ায় ভালো মতো ম্যাসাজ করুন। এটি চুলের নিষ্প্রাণ ভাব দূর করে চুল সিল্কি ও সুন্দর করে।  যদি আপনি রোজ বাইরে বের হন বা নিয়মিত সাঁতার কাটেন, তাহলে আপনার চুলের রং তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে। এর থেকে বাঁচতে চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন, যা সূর্যের তাপ আর পানি থেকে আপনার চুল রক্ষা করবে। কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন শুধুমাত্র চুলে। চুলের গোড়ায় যাতে কন্ডিশনার না পৌঁছায় সে ব্যপারে সতর্ক থাকতে হবে।  সাঁতার কাটলে যাদের চুলের রং ব্লু বেজড, তাদের ক্ষেত্রে রং কিছুটা গ্রিনিশ হয়ে যায়। এছাড়া গোল্ড বেজড ভায়োলেট লুক দেয়, যা দেখতে ভালো লাগে। নতুন করে রং করার আগে চুলে যে রং করা ছিল তা রিমুভারের সাহায্যে তুলে ফেলুন। পাকা চুলের ক্ষেত্রে আপনি যেকোনো রং ব্যবহার করতে পারেন। চুল রং করার সময় খেয়াল রাখবেন চুল যাতে সম্পূর্ণ শুকনো থাকে, কারণ ভেজা চুলে রং আসতে দেরি হয়।  যতটা সম্ভব হেয়ার ড্রায়ার, কালার বা চুল আয়রন করা থেকে বিরত থাকুন। এসব জিনিস চুলকে ভেতর থেকে ড্যামেজ করে এবং ধীরে ধীরে চুল রুক্ষ ও মলিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও চুল পড়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে এসব হেয়ার স্টাইলার ব্যবহার করা।  প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন চুলে গরম তেল ম্যাসাজ করুন ভালোভাবে। ম্যাসাজের পর গরম তোয়ালে মাথায় জড়িয়ে রাখুন। তারপর কালার করা চুলের জন্য তৈরি বিশেষ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। আর চুল ধোয়ার পর কন্ডিশনার লাগাতে একদমই ভুলবেন না।  বারবার চুলের কালার পরিবর্তন করা ঠিক নয়। অন্তত একবার চুল কালার করার পর আর ছয়মাস না করানোই ভালো। তাছাড়া ঘামে চুল ভিজে গেলে, অথবা ধুলা-ময়লা পড়লে তা থেকে চুলকে পরিষ্কার রাখুন। চুলের গোঁড়া পর্যন্ত ভালোভাবে শ্যাম্পু করুন। চুলের গোঁড়া ঘামে ভেজা থাকলে চুলের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়। খেয়াল রাখুন আপনার শরীর হাইড্রেটেড থাকে কি না কারণ যতক্ষণ শরীর হাইড্রেটেড থাকে ততক্ষণ আপনার চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। আর কন্ডিশনার কেনার সময় খেয়াল রাখুন সেটি আপনার চুলের জন্য উপযোগী কি না আর কালার করা চুলের জন্য সঠিক কি না। মডেল মুন মেকআপ হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল ছবি দীপঙ্কর দীপু