খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন, পরিশোধন ও বাজারজাতকরণে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার অধীনস্থ ১৩টি কোম্পানির লোক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এজন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুদকের উপ-পরিচালক আহসান আলীকে।
দুদকে জমা দেয়া অভিযোগের বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, পেট্রোবাংলার এসব অনিয়মের বিষয়ে সংসদীয় কমিটির তদন্তেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিয়োগ সংক্রান্ত এ অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুর ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, পেট্রোবাংলার অধীনস্থ বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড ও কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানির জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ডস কোম্পানির নিয়োগের ক্ষেত্রে খোদ কোম্পানির বোর্ডের অনুমোদন পর্যন্ত নেয়া হয়নি। কোম্পানির জিএম কমিটির নিয়োগ সংক্রান্ত সভায় তিনটি পদের জন্য ৩১টি শূন্য পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত ওই পদে লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১৪৩ জন। আর পুরো নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বিধি-বিধানের তোয়াক্কা করা হয়নি। মানা হয়নি জেলা কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা, নারী কোটা এবং অভিজ্ঞতার অগ্রাধিকারের বিষয়টি।
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, অধ্যাপক হোসেন মনসুর পেট্রোবাংলার কোম্পানিতে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতের সব ধরনের নিয়ম-কানুন পাল্টে ফেলেছেন। এমন অসংখ্য প্রার্থী রয়েছেন যারা লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের মধ্যে ৩৮-৪০ নম্বর পেলেও মৌখিক পরীক্ষায় পেয়েছেন মাত্র ২-৩ নম্বর। অপরদিকে অসংখ্য প্রার্থী যারা লিখিত পরীক্ষায় ১০-১৫ নম্বর পেলেও মৌখিক পরীক্ষায় ৩৫ নম্বরের মধ্যে ৩৫ পেয়ে চাকরি পেয়েছেন। এ ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনায় খোদ তদন্ত কমিটি বিস্মিত হয়েছে বলেও রিপোর্টে বলা হয়েছে।
সূত্র মতে, একইভাবে পেট্রোবাংলার অধীনস্থ তিতাস গ্যাস, জালালাবাদ, বাখরাবাদ, জিটিসিএল, সিলেট গ্যাসফিল্ড, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং, মধ্যপাড়া গ্রানাইড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানিতেও লোক নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
