কুমিল্লার দেবিদ্বারে খুন হওয়া গৃহবধূ শাহিনার মরদেহ উদ্ধার হতে পারে আজ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নলকূপ খনন কাজের অগ্রগতি হওয়ায় আজ বিকাল নাগাদ যে পরিমাণ পাইপ উত্তোলন হবে সেখানে শাহিনার মরদেহের অস্তিত্ব পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন খনন কর্মীরা। উপজেলার ছেচরাপুকুরিয়া গ্রামের গৃহবধূ শাহিনাকে এক মাস আগে হত্যা করে গ্রামের পরিত্যক্ত ওই নলকূপের ভেতর ফেলে দেয় ঘাতকরা।
এদিকে প্রায় ১২ বছর পূর্বে গুম হওয়া স্বামীর লাশের সন্ধানে প্রতিদিন নলকূপটির কাছে দাঁড়িয়ে থাকেন একই গ্রামের রুবিয়া বেগম (৪৫) নামের এক নারী। তিনি গ্রামের জয়নাল আবেদীন-এর স্ত্রী। সরেজমিনে গিয়ে ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের জননী রুবিয়াকে স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত চাদর জড়িয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খনন কাজের কাছে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনতে দেখা গেছে।
এ প্রসঙ্গে ঘটনাস্থল সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সরকার জানান, ২০০২ সালে জয়নাল আবেদীনকে (রুবিয়ার স্বামী) গুম করা হয়েছিল। তার স্ত্রী রুবিয়া মামলা-মোকদ্দমা করেও তার স্বামীর লাশের সন্ধান পায়নি। প্রায় ১২ বছর পর যখন জানতে পারলেন গুম হওয়া শাহিনার লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে এই গভীর নলকূপে। ওই সূত্র ধরে তিনিও (রুবিয়া) ধারণা করছেন, হয়তো তার স্বামীকে (জয়নাল আবেদীনকে) মেরে একই নলকূপে ফেলে গুম করা হয়েছিল। যেহেতু শাহিনার লাশের সন্ধানে এ পাইপ উত্তোলন করা হচ্ছে, হয়তো শাহিনার লাশের নিচে জয়নাল আবেদীন-এর মরদেহেরও অস্তিত্বের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। সেই প্রত্যাশায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খনন কাজের কাছে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।
স্বামীহারা রুবিয়া বেগম অশ্রুসিক্ত নয়নে এই প্রতিবেদককে জানান, ‘আমার স্বামী কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০০২ সালে গ্রামের মৃত আফসার উদ্দিন-এর ছেলে আরশাদ তাকে শেয়ারে সিলেটে বেকারী (বিস্কুট ফ্যাক্টরী) ব্যবসা করার প্রলোভন দেখান। আমার স্বামীও তার কথামত নিজের জমি-জমা বন্ধক দিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা নিয়ে তার সাথে শেয়ারে ব্যবসা করার জন্য সিলেটে চলে যান। এরপর থেকে আমার স্বামীর আর কোন খোঁজ নেই। আমি তাদের (আরশাদ) বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছিলাম; কিন্তু আমাকে এক লাখ টাকা দিয়ে আপোষ করতে তারা বাধ্য করে। আমি লেখাপড়া জানি না। এছাড়া আমার তেমন কোন অভিভাবকও নেই। তাই বাধ্য হয়েই তখন আপোষ করেছিলাম।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুবিয়া বলেন, ‘কিন্তু আজ ১২ বছর পর যখন জানতে পারি এই পাইপে শাহিনাকে হত্যা করে ফেলা হয়েছে, তখন আমার মনে সন্দেহ জাগে- আমার স্বামীকেও হয়তো একই ভাবে হত্যা করে এখানে ফেলে রাখতে পারে। তাই স্বামীর দেহের একটুকরো হাড় দেখার অপেক্ষায় বসে আছি।’
এ ব্যাপারে শাহিনা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদশর্ক শাহ্ কামাল আকন্দ জানান, যেহেতু বিষয়টি ১২ বছর আগের, সেটা আমাদের সঠিক জানা নেই। তিনি বলেন, পেশাদার খুনিরা এটাকে (নলকূপ) নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেয়ার বিষয়টিও ছুঁড়ে ফেলে দেয়া যায় না। তবে পুরো পাইপ উত্তোলন শেষে সব কিছু উদঘাটন হবে।
এদিকে আজ সন্ধ্যা নাগাদ শাহিনার লাশ উদ্ধার হতে পারে উল্লেখ করে পাইপ উত্তোলনকারী মিস্ত্রি আলী হোসেন জানান, শাহিনার লাশের আগে ও পরে পাইপে অন্য যে কোন কিছু থাকতে পারে। তবে নিচের অংশে কি আছে তা ধারণা করা যাচ্ছে না। পাইপ সম্পূর্ণ (৮০ ফুট) উঠানো পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
