চট্টগ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে গেল মিনিবাস

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৪, ২৩:০২
চট্টগ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় পোশাক শ্রমিক বহনকারী মিনিবাসের চার যাত্রী নিহত ও সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে নগরীর চান্দগাঁওয়ে বাহির সিগনাল রেল ক্রসিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ইয়াসমিন (২১), রিয়া (২০), সুইটি (২৫) ও জুলিয়া (৩০)। আহত সাতজনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন, সুজন, শিল্পী, নমিতা, এনাম হোসেন, নেসার ও চম্পা। নিহত ও আহতরা সকলেই কালুরঘাট শিল্প এলাকার বেস্ট টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক। শ্রমিক নিহত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শিল্প এলাকার উত্তেজিত শ্রমিকরা বিভিন্ন গার্মেন্টস লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ এবং দুর্ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে মিছিল করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় মালিকরা গতকালের মত তাদের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেন। পরে শিল্প পুলিশ ও চান্দগাঁও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মিনিবাসের চালক মো. দিদারুল আলম পালিয়ে গেলেও প্রায় ৪ ঘন্টা পর তাকে চান্দগাঁও থেকে পুলিশ আটক করে। ঘটনা তদন্তে দু’টি কমিটি গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ বাহির সিগনাল রেল ক্রসিংটি অনুমোদিত হলেও অজ্ঞাত কারণে গেটম্যান নিয়োগ দেয়া হয়নি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা নিহতের পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা রেলক্রসিংয়ে স্থায়ী গেটম্যান নিয়োগের দাবি জানান। আহত শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মিনিবাসে করে (স্থানীয়ভাবে রাইডার নামে পরিচিত) কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন বেস্ট টেক্সটাইলের ১৫ জন শ্রমিক। দোহাজারী থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ট্রেন সেখানে এসে পড়ে। তবে সামান্য দূরে জান আলী হাট স্টেশন ছেড়ে আসার কারণে ট্রেনের গতি ছিল কম। মিনিবাসটিকে রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ট্রেন চালক বেশ কয়েকবার হুইসেল বাজান। তবে রেল লাইনের সাথে ধাক্কা লেগে বাসের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে ট্রেনটি সজোরে বাসটিকে ধাক্কা দেয়। বাসটি প্রায় ২০০ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। যাত্রীদের আর্তচিত্কারে লোকজন ছুটে আসেন। তারা বাসের ভেতর থেকে ১১ জনকে টেনে বের করেন। এর আগে ট্রেন আসতে দেখে চালকসহ কয়েক শ্রমিক দ্রুত বের হতে পারলেও এরা বাসের মধ্যে আটকা পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আহত এক শ্রমিক অভিযোগ করেন, মিনিবাসের চালক কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। কয়েকবার নিষেধ করা হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। কানে হেডফোন থাকায় ট্রেনের হুইসেলও চালক শুনতে পাননি। তবে শাহজাহান নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই এলাকায় সড়কে গর্ত মেরামতের কাজ চলছে। বাসটির চাকা গর্তে আটকে যায়। ট্রেন আসতে দেখে চালক বাসটিকে টেনে তুলতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে চালক আত্মরক্ষার জন্য বাস থেকে নেমে যান। তার দেখাদেখি কয়েক যাত্রী বাস থেকে নামতে সক্ষম হলেও অন্যরা বাসে আটকা পড়েন। আটক বাসচালক জানান, রেললাইন অতিক্রম করার সময় তার সামনে একটি রিকশা এসে পড়ে। এ কারণে তার পক্ষে বাসটি সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এসময় ট্রেন চলে আসে। রেলওয়ে চট্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, ওই এলাকায় নতুন রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। তাই রাস্তার মাটি সরে গিয়ে রেললাইন অনেক উচুতে উঠে গেছে। কোনো গাড়ি রেললাইন অতিক্রম করতে গেলে প্রায়ই রেললাইনে আটকে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটে। মিনিবাসটি রেললাইনে আটকে যায়। তিনি আরো জানান, ট্রেনটি সামান্য দূরের স্টেশন থেকে ছেড়ে আসায় এর গতি কম ছিল। দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে সদর দপ্তর থেকে ৪ সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী এস এম মাহবুবুল আলমকে। এছাড়া রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ডিভিশনাল ট্রাফিক অফিসার (ডিটিও) ফিরোজ ইফতেখারকে প্রধান করে ৫ সদস্যের আরেকটি বিভাগীয় কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার আবিদুর রহমান, ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, ডিভিশনাল মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও রেলওয়ে পুলিশের কমান্ড্যান্ট আব্দুর রাজ্জাক।