অর্থায়ন :জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলার বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৪, ২১:০৪
বানভাসি, খরা, সাগরের লোনা জলের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের বসবাসের গল্প কথা, তাদের নিত্যদিনের এখনকার অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় লেকচার বেশ জমে উঠে। বৃটেন ৩৯ বিলিয়ন পাউন্ড স্টার্লিং খরচ করে কয়েক লাখ লন্ডনবাসীর জন্য ৮০ দশকের গোড়াতে শেষ করে টেমস নদীর বন্যা প্রতিরক্ষার কাজ। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় বন্যার সুরক্ষার কাজ শেষ সময়ের তুলনায় প্রায় দশগুণ বাড়িয়েও বৃটিশ সরকার খাবি খাচ্ছে। বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটায়নি। দায়ী উন্নত দেশগুলো। কিন্তু দরিদ্র দেশগুলো এর সবচে’ বড় শিকার। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তাই স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান এবং সক্ষমতা। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী টানা গবেষণা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান আর সুদক্ষ পরিকল্পনা ও সুচারু বাস্তবায়ন। জলবায়ু নিয়ে বাংলাদেশ বৃটেনের সহযোগিতার বন্ধন আরও অটুট করা প্রয়োজন। পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়, অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানো দরকার। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সঙ্গে ইউউ দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বাধন আরও পোক্ত করা জরুরি। বৃটেনসহ ইইউ দেশগুলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোর উচিত অবিলম্বে কার্বন ব্যবহার কমিয়ে আনা। ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষর করা। জলবায়ুর অভিঘাত বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশকে নিঃশর্ত অর্থায়ন করা, কারিগরি ও প্রযুক্তি হস্তান্তর করা ও সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করা। বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্র নতুন রং তুলিতে আঁকা হচ্ছে। ক্ষমতার কাঠামো পাল্টাচ্ছে। কার্বন দূষণ বাড়ছে। কার্বন স্বার্থপরতা বেড়েই চেলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনে রাজনৈতিক অর্থনীতিরও রং বদলাচ্ছে। শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে বিশ্ব উন্নয়ন নতুন মাত্রায় উঠেছিল। কার্বন ব্যবহার করেই ঘটেছিল শিল্প বিপ্লব। কিন্তু সেই জীবাশ্ম জ্বালানির অতিব্যবহার আর যথেচ্ছার আজ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি। জীবন, জীবিকা করছে লণ্ডভণ্ড। সে কারণেই ১৯৯২ সালে কার্বন নিসরণ কমাতে তৈরি হয় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সনদ। ১৯৯৭ সালে প্রণীত হয় কিয়োটো প্রটোকল। কথাছিল ২০১২ সালের মধ্যে উন্নত দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাবে ৫ ভাগ ১৯৯০ সালের তুলনায়। আদতে তাতো কমেইনি। বরং গেছে বেড়ে। কথা রাখেনি অনেক বড় শিল্পোন্নত দেশ। তাদের ভোগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশও কার্বন ব্যবহার বাড়িয়ে চলেছে রকেট গতিতে। ফলাফল, জলবায়ু তাড়িত ঝুঁকির বিপন্নতা দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশের মতো হতদরিদ্র দেশগুলোতে সব থেকে বেশি। উন্নত দেশগুলোতেও বাড়ছে লবণাক্ততা, বন্যা-খরা-তুষার ঝড়। স্যার নিকোলাস স্টার্নের হিসেব অনুসারে এক দশক আগেও বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার ছিল জলবায়ু অভিযোজন খরচ। এখন বছর প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার সে অংক ছুঁয়েছে। কোনো কেনো দেশে এখন ফি বছর জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে তলিয়ে যাচ্ছে দেশজ আয়ের কয়েক শতাংশ। আন্ত:সরকার জলবায়ু বিজ্ঞানীদের প্যানেল আইপসিসি তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে এখন সুনিশ্চিত। লেখক: জাতিসংঘের জলবায়ু কনভেনশনে স্বল্পোন্নত দেশগুলো লিড নেগোশিয়েটর, এফইজেবি ও আফেস চেয়ারম্যান [email protected]