ধূমপান নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞগণ এতদিন ধরে বলে আসছিলেন ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ধূমপানের ফলে চেহারায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বার্ধ্যকের ছাপ ফুটে উঠে। তথ্যটি যথার্থভাবে প্রমাণ করার জন্য বিশেষজ্ঞগণ ৭৯টি এডাল্ট জমজ সন্তানের তথ্য সংগ্রহ করেন। আর এই ৭৯ জোড়া পূর্ণবয়স্ক জমজ সন্তানদের তিনভাগে ভাগ করা হয়।
এক: জমজদের একজন ধূমপায়ী এবং অন্যজন অধূমপায়ী, দুই: উভয় জমজ ধূমপায়ী, তিন: উভয়ই ধূমপায়ী তবে তাদের একজন অন্তত ৫ বছর পর ধূমপান শুরু করেছেন। আর বিশেষজ্ঞগণ এই ৭৯ জোড়া পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির চেহারার বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন এঙ্গেলের ছবি তোলেন। ছবিগুলো এক্সপার্ট প্যানেল অব জাজদের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। তবে বিচারকদের জানানো হয় না কারা ধূমপায়ী আর কারা অধূমপায়ী। বিচারকগণ তাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মদ্যপান, ত্বকে সানস্ক্রিনের ব্যবহার এবং মানসিক চাপের বিষয়টিও বিবেচনায় আনেন। কিন্তু বিচারকগণের রায়ে যাদের চেহারায় বয়সের ছাপ অধিক বলে প্রতীয়মান হয় তারা ছিল প্রায় সকলে ধূমপায়ী।
এ ব্যাপারে ক্লিভল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিক্যাল সেন্টারের প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র স্ট্যাডি অথার ড: বাহমান গাউরণ-এর অভিমত, ধূমপান নিয়ে এই ব্যতিক্রমী গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা যে, ধূমপানে শুধু মানুষের বয়স কমিয়ে দেয় তাই নয়, এটা মানুষের চেহারায়ও বয়সের ছাপ ফেলে দেয়। তবে বিশেষজ্ঞগণ এটাও বলেছেন, দু’একটা ক্ষেত্রে যে ব্যতিক্রম দেখা গেছে তা উদাহরণ হিসাবে বিবেচনা করা যায় না।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
