রাঙ্গুনিয়ায় ইটভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৮, ২২:০৬

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গত সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব ভাটায় ইট পোড়াতে বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কয়লার স্থলে নিষিদ্ধ জ্বালানি কাঠ। অভিযোগ রয়েছে, নিকটবর্তী সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং সামাজিক বনায়নের বাগান উজার করে তৈরি করা হচ্ছে জ্বালানি কাঠ। অসাধু কিছু বনকর্মীদের যোগসাজশে বিভিন্ন স্থানের ডিপোতে মজুদ করে সেখান থেকে কাঠ যাচ্ছে ইটের ভাটায়।

হোসনাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নিশ্চিন্তাপুর গ্রামের দানু মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় একশ ইটের ভাটায় একযোগে আগুন জ্বলে উঠলে চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যায়। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বনাঞ্চল উজারে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট ছাড়াও চোরাই জ্বালানি কাঠ পরিবহনে বেপরোয়া গাড়ি চলাচলে রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতিতে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হচ্ছে।

পরিবেশবিদ ও এলাকার লোকজন বলছেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সামাজিক বনায়নের বৃক্ষ নিধন আর অন্যদিকে ভাটার কালো ধোঁয়ায় মানুষের স্বাস্থ্যহানি ছাড়াও বিভিন্ন ফল ফসলের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। কতিপয় ব্যবসায়ী রাঙ্গুনিয়ার প্রায় একশ ইটের ভাটায় রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জ এবং ইছামতি রেঞ্জের বিভিন্ন বিটের আওতাধীন সামাজিক বনায়নের বৃক্ষ কেটে পাচার করছেন। কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী রেঞ্জের আড়াছড়ি, চিত্মরম, রামপাহাড় সীতাপাহাড় এবং কাপ্তাই পাল্পউড বন বিভাগের রাজস্থলী ও বান্দরবান বনাঞ্চলের বাগানের বৃক্ষ জ্বালানি কাঠ করে পাচার করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগীয় কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক শাহ বলেন, শিগগিরই চোরাই কাঠ পাচার প্রতিরোধে অভিযান চালানো হবে। রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় বলেন, ইটভাটাতে বন বিভাগের অভিযান চালানোর সুযোগ নেই। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বনসম্পদ রক্ষার কাজে বনকর্মীরা তত্পর রয়েছেন। তবে কোথাও কোথাও প্রভাবশালীদের দাপটে চোরাই কাঠের পাচার প্রতিরোধ করা দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার উত্তরাঞ্চলে ইসলামপুর, রাজানগর, দক্ষিণ রাজানগর, হোসনাবাদ ও লালানগর ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে প্রায় একশ ইটভাটার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইটভাটা স্থাপনের সরকারি নিয়মনীতি মানা হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের  অনুমতি এবং বনাঞ্চল হতে আবশ্যকীয় দূরত্ব রক্ষা ছাড়াই সংরক্ষিত সরকারি বনাঞ্চলে যত্রযত্র এবং আবাদী জমির উপর ইটের ভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পাহাড় কেটে এবং আবাদী জমির টপ সয়েল আহরণ করে ইট তৈরিতে মাটির জোগান দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, এলাকার ইটের ভাটার সংখ্যা ও সঠিক তথ্য তার অফিসে নেই। ইটভাটার অনুমতি ও ছাড়পত্র দেয়া জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের এখতিয়ার। তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য এলাকার ইটের ভাটায় মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের  অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ইটভাটা এবং অনিয়ম দুর্নীতির জন্য মালিকদের প্রতি জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়। গত সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কে পাচারের সময় চোরাই জ্বালানি কাঠ বোঝাই গাড়ি আটক করেছি। তিনি বলেন, পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যকলাপে অনেকে জড়িত। একাকি এসবের প্রতিরোধ দুস্কর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ইটভাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। অনিয়ম প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।