জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ভর্তি হয়েছি তিন বছর আগে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে। আমার ছাত্রাবস্থায় পাওয়া তৃতীয়, জাহাঙ্গীরনগরের ১৮তম, বাংলাদেশের প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের কাছে প্রত্যাশা: একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হোক। সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাহিদা খুবই অল্প। তারা চায় সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস। এখানকার অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে। সেক্ষেত্রে তাদের পরিবার তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকে কখন তারা পড়ালেখা শেষ করে পরিবারে আর্থিকভাবে ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীরা একটুতেই খুশি হয় যেমন ক্যাম্পাসে প্রশাসন কর্তৃক সরবরাহকৃত তারবিহীন ইন্টারনেট সংযোগে যদি প্রয়োজনীয় কাজ মেটাতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবেই নিরবিচ্ছন্নভাবে ওয়াইফাই সংযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীরা পায় না। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে গিয়ে যদি সহজেই একটা সিট পায়—একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর তাতেই খুশির শেষ থাকে না। আর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের হানাহানি যদি না দেখতে হয় কারো তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। বাড়িতে অভিভাবকেরা নিশ্চিন্তে থাকবেন তাঁদের সন্তান নিরাপদে আছে ক্যাম্পাসে। সিনেট যথাশীঘ্র সম্ভব হালনাগাদ করা হোক। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিষয়ে সব মহলের পরামর্শের ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া হোক। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির বর্ধিতাংশ সম্পন্ন করা হোক দ্রুত। সব মহলের যৌক্তিক পরামর্শ গ্রহণ করা হোক। জুবায়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় জাবি প্রশাসন তদারকি বাড়িয়ে দিক। ক্যাম্পাসের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য যে দু’এক জন ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতা বা কর্মীর কারণে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নির্মাণকাজে বখরা নেওয়া, সন্ত্রাস, নিয়োগ দুর্নীতি এসব তত্পরতা দেখা যায় সচরাচর। তাদের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার পদক্ষেপ যেন নেওয়া হয়। এজন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ভরসা করা যেতেই পারে। শিক্ষা-সংস্কৃতিক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনে আন্তরিক হতে হবে। এসব কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বার্থ কেন্দ্রে রেখে স্বাধীনভাবে করা একটু কঠিন তবে অসম্ভব নয়। সর্বোপরি শিক্ষা-গবেষণার উত্তর উত্তর সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং উন্নতিকল্পে যে কোনো দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া। এ লক্ষ্যে যে কারো বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং যে কারো যৌক্তিক পরামর্শ গ্রহণ করা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
