হাঁটা, রিকশা ও সাইকেল চলাচলে চাই বিশেষ উদ্যোগ

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৪, ২১:১৪
যাতায়াতব্যবস্থায় হাঁটা এবং অযান্ত্রিক যানবাহন হিসেবে রিকশা ও সাইকেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নগর যাতায়াতে অধিকাংশ মানুষ এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে। হাঁটা, রিকশা ও সাইকেলে যাতায়াতের সুবিধা-অসুবিধা দেখার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান/কর্তৃপক্ষ নেই। এজন্য যাতায়াত বিষয়ক পরিকল্পনা ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে হাঁটা, সাইকেল ও রিকশা গুরুত্ব পাচ্ছে না। ফলে এই মাধ্যমগুলোতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বচ্ছন্দে নগরে হাঁটা, রিকশা ও সাইকেল চলাচলের সুবিধার্থে অযান্ত্রিক যান (নন-মোটরাইজড্ ট্রান্সপোর্ট) এনএমটি সেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। সারাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট-এর উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাম্পেইনে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়। হাঁটা, রিকশা এবং সাইকেলের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এনএমটি সেল গঠন করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বাংলাদেশ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায়, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ আসাদগেট এলাকায়, আস্থা গাবতলিতে, সহায় উন্নয়ন সংস্থা মিরপুরে, বিশ্বনাথপুর কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম মানিকগঞ্জে, প্র্যাস জামালপুরে, এসডিও নারায়ণগঞ্জে, নাইস ফাউন্ডেশন খুলনায়, ইয়েস বাংলাদেশ বরিশালে, বস্তি উন্নয়ন ও কর্ম সংস্থা রাজশাহীতে, জীবিকা বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সংস্থা সিলেটে, সেলফ হেল্প অ্যান্ড অ্যাডভান্স ডেভলপমেন্ট অরগানাইজেশন রংপুরে এবং বর্ণালী চট্টগ্রামে লিফলেট ক্যাম্পেইন করে। হাঁটার জন্য নগর এলাকায় পর্যাপ্ত ফুটপাত তৈরি, সমতলে রাস্তা পারাপারে জেব্রা ক্রসিং, সিগনাল লাইট, পথচারী পারাপার সাইন, পাবলিক টয়লেট, পথচারীর বসার ব্যবস্থা করা এবং সাইকেল ও রিকশার জন্য পৃথক লেন নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে একটি সেল বা বিভাগ প্রয়োজন। ঢাকা শহরের একটি বড় অংশের মানুষ হেঁটে চলাচল করলেও, নগর পরিকল্পনায় পথচারীরা বরাবরই উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। ঢাকা যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও পথচারীদের জন্য নেই বরাদ্দ ও পরিকল্পনা। পরিকল্পনা আর বাজেটে পথচারী উপেক্ষার কারণে পথচারীরা এই নগরে আহত ও নিহত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা শহরের যে পরিমাণ দুঘর্টনা হয় তার ৮৬% পথচারী। অর্থাত্ নগরে সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন একজন পথচারী আহত বা নিহত হয়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের একটি বিভাগ বা সেল থাকলে এটি হতো না। সিটি কর্পোরেশনের আইন-২০০৯ তৃতীয় তফসিল-এর ১৯.১ তে বলা হয়েছে—‘পথচারী যাহাতে পথ চলিতে বিপদগ্রস্ত না হন এবং তাহার নিরাপদ ও অনায়াসে পথে চলাফেরা করিতে পারে সেই জন্য কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।’ ঢাকা মেট্রোপলিটন আইনের ধারা ৬৬,৬৭,৬৮,৭২, ৭৭, ৮০ এবং বিআরটিএ ধারা ১৪৩, ১৫৭, ১৬৪ (খ) ধারায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিধান রয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের স্ট্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট-এ পথচারীদের অগ্রাধিকার নীতির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পথচারীদের বিষয়টি গুরুত্ব না পাওয়ায় এ বিধানগুলোর বাস্তবায়নে পদক্ষেপ খুবই কম। ঢাকা